
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৩

ঢাকায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে বৈঠকে ভারত, চীন বা আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। কেবল একটি বৈঠকের মধ্যে এই সম্পর্ক সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, বৈঠকে ভারত বা চীনকে ঘিরে কোনো বিষয় আলোচনায় আসেনি। একইভাবে মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর সম্পর্কেও কোনো আলোচনা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি নিরাপত্তার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত করতে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এদিনের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি বলেও স্পষ্ট করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও বহুমাত্রিক করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ঢাকা ও ওয়াশিংটন বর্তমানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী। একই সঙ্গে সংবেদনশীল আঞ্চলিক ইস্যুর পরিবর্তে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নকেই এই বৈঠকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।