প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৭:৪২

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম ইংরেজি শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগের পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি অফিস সহকারীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ইংরেজি বিষয়ের ক্লাসও নিতেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন শিক্ষার্থীর বাসায় গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে পাঠদান করতেন। এ সুযোগেই এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার অভিযোগ ওঠে।
গত ২৫ জুলাই এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয় এবং বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হলে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বিদ্যালয়ের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের গুঞ্জন ও আর্থিক সমঝোতার অভিযোগও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, অভিযোগ সামনে আসার পরপরই শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হয়। তদন্তের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের সুনাম ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন ও গুজব বলে দাবি করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
৩১ জুলাই, ২০২৬।