প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:২৯

ঝালকাঠির রাজাপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরকারি নির্ধারিত খরচের বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিক, পুলিশ ও স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যান সংসদ সদস্য। সেখানে তিনি অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গেও কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে জমি গ্রহীতা মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন এমপি জামাল। জাকির জানান, তিনি ৩ লাখ টাকায় একটি জমি কিনেছেন এবং জমি রেজিস্ট্রির খরচ বাবদ দলিল লেখক মো. আলকাজ হোসেনকে মোট ৩৬ হাজার টাকা দিয়েছেন।
এ সময় ৩ লাখ টাকার জমির জন্য ৩৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে কেন, তা নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে জানতে চান সংসদ সদস্য। তবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন দলিল লেখক আলকাজ হোসেন।
আলকাজ হোসেন দাবি করেন, দলিলের খরচ বাবদ তিনি ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন। বাকি ৬ হাজার টাকা জাকির হোসেন বাইরে থেকে দাখিলা সংগ্রহের কাজে ব্যয় করেছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে রাজাপুর সাব-রেজিস্ট্রার (খণ্ডকালীন) মো. মেহেদী হাসান জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলিল লেখক আলকাজ হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে।
সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। বিশেষ করে ছোট জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে এ ধরনের অভিযোগ বেশি আসছিল। বিষয়টি সরাসরি দেখতেই তিনি আকস্মিকভাবে অফিসে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দলিল লেখার নামে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, সেটিও নজরদারির মধ্যে আনা দরকার। প্রয়োজনে অফিসের কার্যক্রম তদারকির জন্য দলীয়ভাবে একটি টিম গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনের সময় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল হক নান্টু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. মাসুম বিল্লাহ পারভেজ, সদস্যসচিব সৈয়দ নাজমুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বাবু রতন দেবনাথ, সদস্যসচিব মো. রিয়াজ হোসেন খানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।