
প্রকাশ: ৪ জুলাই ২০২৬, ২২:৩৫

ঘন ঘন লোডশেডিং আর তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের জনজীবন। গত দুই সপ্তাহ ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। এরই মধ্যে কয়েক দিনের তাপপ্রবাহের পর এক পশলা বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও সামগ্রিক পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি।
জানা গেছে, মৌলভীবাজার সদর, শ্রীমঙ্গল, রাজনগর, কমলগঞ্জসহ জেলার সাত উপজেলায় লোডশেডিং আশঙ্কাজনক মাত্রা পেয়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা আরও বেশি। দিনের বিভিন্ন সময়ের পাশাপাশি গভীর রাতেও বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গলের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নাইমা বলেন, পরীক্ষা চলাকালেই বিদ্যুৎ চলে যায়। ফ্যান বন্ধ থাকায় প্রচণ্ড গরমে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই অভিযোগ করেছেন অভিভাবক মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, তার সন্তানের পরীক্ষা চললেও দুপুর, বিকেল ও রাতে বারবার বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শহরের শাহ মোস্তফা সড়কের বাসিন্দা মুখর্শেদ আলম জানান, গত কয়েক দিনে লোডশেডিং সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। গরমের কারণে ঘরে অবস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে শ্রীমঙ্গলের কৃষক মোস্তফা মিয়া বলেন, দিনে সাত থেকে আটবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। শ্রীমঙ্গলের একটি হোটেলের মালিক নুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন দোকান খোলার পর থেকে রাত পর্যন্ত ছয়-সাতবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। এতে ব্যবসার পাশাপাশি খাদ্য সংরক্ষণেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

কমলগঞ্জের বাসিন্দা সখিনা বেগম বলেন, সন্ধ্যায় সন্তানকে পড়াতে বসার পরই বিদ্যুৎ চলে যায়। দীর্ঘ সময় ফ্যান বন্ধ থাকায় অসহনীয় গরমে ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হচ্ছে এবং বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও কার্যকর থাকছে না।
এদিকে কয়েক দিনের দাবদাহের পর জেলার শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় আধা ঘণ্টার হালকা বৃষ্টি হয়েছে। এতে গরম কিছুটা কমলেও সড়কে চলাচলকারী মানুষকে সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তবে অনেকেই মনে করছেন, এই বৃষ্টি অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও তাপপ্রবাহের কষ্ট থেকে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।