প্রকাশ: ৪ জুলাই ২০২৬, ২২:৫২

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক ও চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তাদের আটক করে পুলিশ। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি জীবনানন্দ নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আটকে রাখা হয়। পরে তার পরিবারের কাছে ১৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তাওকিক ওরফে তাহকিক হাসানকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হাকিমপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশের দাবি, তদন্তে অপহরণের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণ মিলেছে। এর আগে একই মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে পৃথক অভিযানে মাদক, চুরি, মাদক সেবন এবং পরোয়ানাভুক্ত মামলায় আরও চারজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন শাহীন, স্বপন কুমার রায়, সাখাওয়াত হোসেন জুয়েল ও বিদ্যুৎ হোসেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

হাকিমপুর থানা পুলিশ জানায়, অপরাধ দমনে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের আশা তৈরি হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এমন ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।