বরিশালের চরমোনাইয়ে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও বিশ্ব মানবতার কল্যাণ কামনায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী ফাল্গুনের বার্ষিক মাহফিল সমাপ্ত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় সমাপনী অধিবেশন ও আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মুসল্লীর অংশগ্রহণে আধ্যাত্মিক এ মিলনমেলার পরিসমাপ্তি ঘটে।
গত ১ এপ্রিল বুধবার বাদ জোহর আমীরুল মুজাহিদীন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে মাহফিলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন। তিন দিনব্যাপী মাহফিলে দেশব্যাপী বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা অংশ নেন।
সমাপনী বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, মানুষ আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নাফরমানিতে লিপ্ত হচ্ছে। তাক্বওয়া অর্জন ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ, রাগ ও গীবতের মতো গুনাহ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
তিনি পরিবারে দ্বীন শিক্ষা চালু করা, পর্দা রক্ষা, নিয়মিত জিকির-আজকার, সহীহভাবে কুরআন তিলাওয়াত এবং সাপ্তাহিক হালকায়ে জিকিরে অংশ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। নেশাজাত দ্রব্য থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
আখেরি মোনাজাতে ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, মিয়ানমার, সিরিয়া, ইরান ও লেবাননসহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে বিশেষ দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে গত অগ্রহায়ণ মাহফিল থেকে এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারী প্রায় দেড় হাজার মুরিদের জন্য মাগফিরাত কামনা করা হয়।
মাহফিল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, ওলামায়ে কেরাম ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান পীর সাহেব চরমোনাই।
উল্লেখ্য, মাহফিলে আসা মুসল্লীদের মধ্যে ২ জন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তারা হলেন, কাটালিয়া, মাধবদী, নরসিংদী নিবাসী এমদাদুল হাসান (৮৬) এবং ভুয়াপুর টাঙ্গাইল নিবাসী মো.তালহা (২২)। উভয়ের জানাযা শেষে মাহফিল হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।