মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইন ও মেম্বার আলিউল আজিম শাহিনের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে ঝাটা মিছিল করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় বামন্দী-কাজিপুর সড়কের নতুন বজ্রপুর এলাকায় এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, চেয়ারম্যান ও মেম্বার ভিজিএফ (ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং) কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দরিদ্র মানুষদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কার্ড দেননি।
ভুক্তভুগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান আলম হুসাইন এবং মেম্বার আলিউল আজিম শাহিন নতুন বজ্রপুর গ্রামের ১৫/২০ জন দরিদ্র ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিয়ে ভিজিএফ কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও কার্ড পাওয়া তো দূরের কথা, অর্থ ফেরতও দেয়া হয়নি। গত দুই বছর ধরে এ নিয়ে তারা বিভিন্ন সময় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে গিয়েও কোনো সুরাহা পায়নি, যার ফলে তারা বাধ্য হয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে অংশ নেন।
নতুন বজ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, “দুই বছর আগে ২৫ হাজার টাকা নিয়েছিল চেয়ারম্যান, কিন্তু আজও কার্ড দেয়নি। এমনকি টাকা ফেরতও দেয়নি।” শহিদুল ইসলাম নামে এক গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, “অন্তত ১৫/২০ জনের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছে চেয়ারম্যান ও মেম্বার, কিন্তু আমাদের কিছুই দেয়নি। ঈদের সময় সরকারিভাবে ১০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও আমাদের গ্রামে তা বিতরণ হয়নি।”
একাধিক নারী অভিযোগ করেন, মেম্বার শাহিনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ৫ হাজার টাকা নিয়ে ভিজিএফ কার্ড দেয়ার কথা বলেছিলেন, কিন্তু পরে তারা জানায় যে, "ভোট নেবেন না, তাই কার্ডও দেবেন না।" এসময়, যখন টাকা ফেরত চাওয়া হয়, তখন মেম্বার গালিগালাজ করেন।
ইউপি মেম্বার আলিউল আজিম শাহিন দাবি করেছেন, “আমি নতুন বজ্রপুর গ্রামে ভোট চাইতে যাইনি এবং টাকা নেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়।” তবে চেয়ারম্যান আলম হুসাইনও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কারোর কাছ থেকে টাকা নেইনি।”
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা জানিয়েছেন, যদি কার্ড দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া, ১০ কেজি চাল কেন বিতরণ করা হয়নি, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।