
সরাইলে বন্ধু ফাউন্ডেশনের ঈদ উপহার পেল শতাধিক পরিবার
তাসলিম উদ্দিন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৫, ২২:৪২
শেয়ার করুনঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বন্ধু ফাউন্ডেশন বিভিন্ন দুর্যোগ ও ধর্মীয় উৎসবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ঈদ উপলক্ষে উপজেলার শতাধিক অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে চারটায় প্রাণিসম্পদ মাঠে এই উপহার বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালিকচ্ছ পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম মানিক, উচালিয়া পাড়া গ্রামের মো. ফজল মিয়া, সরাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মো. তাসলিম উদ্দিন, বন্ধু ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সুদীপ দত্ত তনু, ভবুতুস চক্রবর্তী এবং মো. জহিরুল ইসলাম রিপন। কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়, যা পরিচালনা করেন ক্বারী জামাল উদ্দিন।
এই কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেন বন্ধু ফাউন্ডেশনের প্রধান সন্দীপ দত্ত মানু। তার আর্থিক সহায়তায় অসহায় পরিবারগুলোর জন্য ঈদ উপহার হিসেবে সেমাই, চিনি, দুধ, কিসমিস ও ডাল বিতরণ করা হয়। ঈদ উপহার পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো আনন্দ প্রকাশ করে এবং সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়।
সংগঠনের সদস্যরা বলেন, ঈদের আনন্দ শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে যদি গরিব-দুঃখী মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়, তবেই ঈদ উদযাপন হবে প্রকৃত অর্থে স্বার্থক। তারা জানান, বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় প্রতি বছরই ঈদ উপহার বিতরণ করা হয় এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের বিত্তবানরা যদি এমন উদ্যোগে এগিয়ে আসেন, তাহলে প্রতিটি ঘরেই ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে। দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মতো মহৎ কাজ সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
সরাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মো. তাসলিম উদ্দিন বলেন, বন্ধু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়।
বন্ধু ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদ ছাড়াও তারা বিভিন্ন সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই মানবিক উদ্যোগের ফলে সরাইল উপজেলার অসহায় মানুষগুলোর ঈদের আনন্দ আরও রঙিন হয়েছে। সমাজের অন্যরাও যদি এভাবে এগিয়ে আসে, তবে দারিদ্র্যক্লিষ্ট মানুষের মুখে হাসি ফোটানো আরও সহজ হবে।


