প্রকাশ: ৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০:২
আশাশুনির খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নের প্রায় ৬৫০ একর আমন ধানের জমির জলাবদ্ধতা নিরসনে খোলপেটুয়া নদীর সাথে পানি সরবরাহ সুবিধায় চেউটিয়া খালের পাউবো'র বাঁধে স্লুইস গেট নির্মাণের দাবীতে ১৪ গ্রামের মানুষ দাবী তুলেছে।
এ বিষয়ে পশ্চিম ফটিকখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত হয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেন খাজরা ইউনিয়নের ফটিকখালি, গজুয়াকাটি, খালিয়া, পশ্চিম খাজরা, দেয়াবর্ষিয়া, পিরোজপুর, রাউতাড়া, কাপসণ্ডা, ও বড়দল ইউনিয়নের বাইনতলা, পাচপোতা সহ বিভিন্ন গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত ভূক্তভোগী পরিবারের লোকজন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য রামপদ সানা জানান, গত আষাঢ় মাস থেকে অতিবৃষ্টি ও লবন পানির ঘের মালিকদের নিষ্কাষিত লবনাক্ত পানিতে আমরা ডুবে আছি। সংশ্লিষ্ট এলাকার পানি কালকি স্লুইস গেট দিয়ে এতদিন নিষ্কাশিত হতো। কিন্তু বড়দলের কপোতাক্ষ নদের নাব্যতা হারিয়ে স্লুইস গেটের মুখে অতিরিক্ত পলি পড়ে গেট দিয়ে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
তারপর কপোতাক্ষ নদ খনন কাজ চলমান থাকায় পানি নিষ্কাশনের এ পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে পলি অপসারণের কাজ করলেও দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে আমাদের পরবর্তী ফসল উৎপাদন ব্যহত হতে পারে। তাই বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে অধিকাংশ পরিবারের ঘরে চাউল নেই তাই পরবর্তী ফসল উৎপাদন না হওয়া পর্যন্ত সরকারিভাবে রেশনের সুবিধা দিলে সবাই উপকৃত হবে।
প্রধান শিক্ষক কিঙ্কর মণ্ডল জানান, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের জন্য এখনই কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়া জরুরী। জলাবদ্ধতার কারণে গত ২০২২ সাল থেকে দু'বছর ৬৫০ একর জমির মালিকরা ধান চাষাবাদ না করতে পারায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এলাকাবাসি। আরও একবছর যদি চাষাবাদ না করতে পারে তাহলে বেচে থাকার তাগিদে বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য সবাইকে এলাকা ছাড়তে হবে। খোলপেটুয়া নদীর চেউটিয়া খালের উপর বাঁধ উন্মুক্তসহ খোলপেটুয়া নদীর পাউবো'ব বেড়ী বাঁধে স্লুইস গেট নির্মাণ করা হলে খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নে বসবাসকারি প্রায় ৩০/৩৫ হাজার মানুষ জলাবদ্ধতা মুক্ত হবে।
গত ২৫ অক্টোবর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর খোলপেটুয়া নদীর পানি রক্ষা পাউবো'র বাঁধে চেউটিয়া খালের মুখে স্লুইস গেট নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সেটা যদি অনুমোদন দেয়া হয় তবে তা দুই ইউনিয়নের মানুষের জন্য আশির্বাদ হয়ে দেখা দেবে।হোমিও চিকিৎসক নৃপেন্দ্র নাথ মন্ডল জানান, স্থায়ী সমাধানের জন্য খোলপেটুয়া নদীর চেউটিয়া খালের বাঁধের মুখে প্রয়োজনীয় পানি নিষ্কাষনের জন্য গেট নির্মাণ করতে হবে।
যতদিন না হবে ততদিন পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে চেউটিয়া খালের নদী সংলগ্ন পবনা খালের নেটপাটা অপসারণ করে আনুলিয়া ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামের হরিমর্দন গেট পর্যন্ত উন্মুক্ত করতে হবে। এছাড়া দেয়াবর্ষিয়া খাল, পুকুরের খাল ও ঝোরের খালের নেটপাটা অপসারণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে উন্মুক্ত করলে ফটিকখালি বিলের পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে। বিজন সানা (সার্ভেয়ার) জানান, জলাবদ্ধতার কারণে চাষাবাদ না করতে পেরে আমরা চরম দুর্ভোগে আছি। রাস্তা কার্পেটিং করবে বলে বিগত এক বছর ধরে মাটি খুঁড়ে ফেলে রেখেছে। কোন যানবাহন চলাচল করতে পারে না।
কোন মানুষ অসুস্থ হলে তাকে ভ্যানে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায় না। এসব গ্রামে ১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১১ টি মাদ্রাসা, ৩ টি হাইস্কুল, অসংখ্য মসজিদ ও মন্দির অবস্থিত। কমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্ম প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ থেকে উত্তরণের জন্য কর্দমাক্ত রাস্তা পাকা ও সোলিং করন, জলাবদ্ধতা নিরসনে পাউবো'র বাঁধে স্লুইস গেট নির্মাণ ও বর্ষা মৌসুমে সংশ্লিষ্ট খালের নেটপাটা অপসারণ করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত শত শত পরিবারের হাজার হাজার ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন।