
প্রকাশ: ২ আগস্ট ২০২২, ২৩:৫৬

মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের একসময়ের আতঙ্কিত জায়গা গাংনী উপজেলার চোখতোলার মাঠ। সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে বিলীন হয়েছে সীমান্তবর্তী মেহেরপুর জেলায় সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের তান্ডব। স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষের জীবনে। রাতবিরেত শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেতে আর সন্ত্রাসীদের কবলে পড়ার ভয় নেই। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে চোখতোলার আতঙ্ক দূর হয়েছে। পথচারীদের কাছে এখন স্বস্তির বাজার চোখতোলা।
কথিত আছে চোখতোলা নামক জায়গাটির পূর্বের নাম ছিলো ঢোপাগাড়ির মাঠ। স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ে উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের দুই সহোদর শওকত আলী ও কেয়ামত আলীর মধ্যে জমিজায়গা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে মেহেরপুর আদালত থেকে ফেরার পথে কেয়ামত আলী দলবল নিয়ে ঢোপাগাড়ি (বর্তমান চোখতোলা) নামক স্থানে শওকত আলীর চোখ উপড়ে নেয়। চোখ উপড়ে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে জায়গাটির নাম হয়ে যায় চোখতোলা।
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের তীর্থস্থান হয়ে উঠে চোখতোলার মাঠ। দিনেদুপুরেও ডাকাতির মতো ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে স্থানটিতে। দিনে কিংবা রাতে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের চোখতোলা নামক স্থান পথচারীদের কাছে চলাচলের পথে আতঙ্কের প্রধান কারণ ছিলো।
সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রশাসনের নজরদারিও আধুনিক হয়েছে। গত কয়েক বছরে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নানাভাবে উন্নত হয়েছে। চোখতোলায় ভয়ের আতঙ্ক দূর হয়েছে অনেক আগেই। এখন চোখতোলার মতো আতঙ্কের স্থানটি মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে চলাচল করা মানুষের কাছে স্বস্তির বাজারে পরিনত হয়েছে।

সড়কের দুই পাশে সারি সারি নানান ধরনের গাছের নিচে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট অনেকগুলো দোকান। সেসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে পথচারীদের পছন্দের নানান ধরনের হালকা খাবার। প্রতিদিন মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার পথযাত্রীর যাত্রা বিরতির অন্যতম স্থান এখন চোখতোলায়।

চোখতোলা বাজারের ব্যবসায়ী মহেশপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম জানান, 'প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে চলাচলের পথে থামে। এই দোকানের উপর নির্ভর করেই আমার সংসার চলে।'
সেখানকার আরেকজন ব্যবসায়ী জাহিদ হাসান জানান, 'একসময়ের আতঙ্কিত জায়গায় এখন নতুন রূপ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ব্যবসা বাণিজ্য করছি।'
গাংনী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, 'আমি গাংনী থানায় যোগদানের পর থেকে সেখানে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার কথা শুনতে পায়নি। এবং আলিনগর-চোখতোলা এলাকায় গাংনী থানা পুলিশ নিয়মিত টহল দেয়।'
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমি খানম জানান, 'চোখতোলা জায়গাটিতে অনেকেই ঘুরতে যায়। তবে উপজেলা প্রশাসন জায়গাটিকে বিনোদন ক্ষেত্রে ব্যবহারে আশ্বস্ত করতে পারবেনা। কারণ সেখানে সরকারি খাস জমি নেই তাছাড়া মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে চারলেনের কাজ শুরু হলে দোকানগুলো ভাঙ্গা পড়বে।'