
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২২, ১৭:১০

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবৈধ ইটভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের তাপে প্রায় ২৫০ বিঘার ধান নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের মহরাবহ গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এমনি চিত্র। তবে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের বারবার খবর দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রায় অর্ধশত ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার বেশির ভাগ নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র। তবে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসব অবৈধ ইটভাটা গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অবৈধ ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার মণ ধানখেত নষ্ট হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা।
এদিকে উপজেলায় এ বছর ১০ হাজার ১৭৫ হেক্টর বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের মহরাবহ মৌজায় অবস্থিত নাসির ব্রিকস্ নামের একটি ইটভাটা রয়েছে। ফসলি জমির ওপর স্থাপিত এই ভাটার চারপাশে রয়েছে কৃষকের ধানের জমি ও ঘরবাড়ি, আম, কাঁঠাল, লিচু, নারিকেল গাছসহ বিভিন্ন ফলের গাছ। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় গাছের ফল পচন ধরেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে শিশুদের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগ করেন, ইটভাটা থেকে নির্গত গরম বিষাক্ত গ্যাসের কারণে মহরাবহ গ্রামে প্রায় ২৫০ বিঘা জমির ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ইট পোড়ানোর কাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইট পোড়ানো চেম্বারে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস থেকে ছেড়ে দেন। গ্যাস ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার বাতাস উত্তপ্ত হয়ে যায়। ইট ভাটার বিষাক্ত বাতাস যে দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সেই দিকের ফসলি জমির আধাপাকা ধান পুড়ে গেছে। ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন গাছের ফল ও সবুজ পাতা ঝরে গেছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

নাসির ব্রিকস্ ভাটার মালিক নাসির বলেন, কৃষকের ধান নষ্ট হওয়ার ঘটনা সঠিক। তবে ইটভাটার কারণে ধানের ক্ষতি হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
কালিয়াকৈর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ইটভাটার গ্যাসের তাপে ধান পুড়ে যাওয়ার বিষয়ে আমি শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, ইটভাটার গ্যাসের কারণে ধান নষ্ট হয়েছে। বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।