
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২২, ২১:১৮

ঢাকার সাভারে চোর ছিনতাইকারী অপবাদ দেওয়ায় বাসায় আত্মহত্যা করেছে আরাফাত (১০)নামের এক শিশু। বাবা মা ছাড়া এই এতিম শিশুর মরদেহ দাফনের জন্য কবরস্থান থেকে শুরু করে মানুষের দুয়ারে ঘুরছে নিহত শিশুর দাদী।মঙ্গলবার(২৬ এপ্রিল) সকালে শিশু আরাফাত এর দাফনের বেপারে তার দাদী জরিনা বেগম (৬০) সাভারের দেওঁগা মুসলিম কবস্থানের কতৃপক্ষের সাথে কথা বলতে গেলে তার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করে।
এরআগে, গতকাল সোমবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার দেঁওগায়ে কামালের বাড়ি থেকে শিশুটির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত কিশোর আরাফাত চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার কালিবাজার গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে। সে সাভারে দেঁওগায়ে তার দাদির বাড়িতে থাকতো। শিশুটির বাবা-মা তার দাদির কাছে রেখে আলাদা হয়ে যার যার মত সংসার করছে। তাদের সাথে এখন আর কোনো যোগাযোগ নেই জরিনা বেগমের।
নিহত আরাফাতের দাদি জরিনা বেগম বলেন, বাপ-মায়ে চলে যাওয়ার পর আরাফাত আমার সাথে সাভারেই থাকতো। আমি শুনতে পেরেছি কে বা কারা আরাফাতকে চোর-ছিনতাইকারী বলে গালিগালাজ করে। পরে গতকাল দুপুরে আমি বাসায় না থাকলে সে গলায় দড়ি দিয়ে ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুঁলে আত্নহত্যা করে। তার মরদেহ পুলিশ এসে উদ্ধার করে। আজ আরাফাতকে দাফনের জন্য কবরস্থানে গিয়েছিলাম কথা বলতে। কিন্তু টাকা চায় ৫ হাজার।
কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, আমি অনেক জায়গায় গিয়েছি, এখনো যাচ্ছি। আমরা গরিব মানুষ এই এতিম ছেলের বাবা-মাও নেই। আমি ভিক্ষা করে আরাফাতের (ময়নাতদন্তের), কাপর ও বাশ কেনার টাকা জোগার করেছি। এই টাকা হুট করে এখন কোথায় পাবো।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

দেওঁগা মুসলিম কবস্থানের কোষাদ্যক্ষ দ্বায়িত্ব থাকা জাহাঙ্গীর খাঁন বলেন, এটা আমাদের কবরস্থানের নিয়ম। এটা একটি সামাজিক কবরস্থান। এই জায়গায় কাউকে (দাফন) মাটি দিতে গেলে টাকা লাগে। এখানে আমরা সাবাই এই নিয়ম মেনে চলি। এই টাকাটা উন্নয়নের কাজে লাগানো হয়। যে ছেলেটি মারা গেছে সেই ছেলেটির মাটি এখানে তো দেওয়া যায় না। আমরাদের কবরস্থানের নিয়ম দেওগার বাইরে কোনো লোক এখানের মাটি দেওয়া হবে না। তারপরেও ছেলেটি যেহতু দেওগায় ভাড়া থাকতো, আমি বলে দেখি এই কবরস্থানে মাটি দেওয়া যায় নাকি?

কবরস্থানটির সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। আমাদের এলাকায় ছেলেটি থাকতো। ছেলেটির জন্য তার দাদি আমাদের বাসায় এসেও সাহায্য নিয়ে গেছে। আর দাফনের ব্যপারে আমি এখনো কোনো কিছু শুনি নি। আমাদের কবরস্থানের কিছু নিয়ম আছে। থানা থেকে মরদেহ দিলে আমরা সাবাই বসে একটি সিদ্ধান্তে আসবো।
সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হক বলেন, জরুরী সেবা (৯৯৯) ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে নিহতের মরদেহ উদ্ধা করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ পাঠাই। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে সাভার মডেল থানায় একটি অপমৃর্ত্যর মামলাও হয়েছে। মরদেহটি আজ বিকালে ভেতর হাসপাতাল থেকে সাভারে এসে পৌছাবে।