
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২২, ৪:১২

নিউমার্কেটে সংঘাতের ঘটনা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষে সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। বুধবার রাত ১২টার দিকে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে রাত সাড়ে আটটার পরে এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে ভেন্যু ঠিক না হয়ায় এ বৈঠক পিছিয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। বৈঠকের আগে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের নিয়েও বৈঠক করেছে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন এই বৈঠকের বিষয়ে বলেন, ‘পাঁচটার দিকে ঢাকা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সেটি পিছিয়ে রাতের দিকে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।’
এর আগে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িতরা কেউ ব্যবসায়ী বা তাদের কর্মচারী নয়। দোকানপাট খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথাও জানান নিউমার্কেট দোকান সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তার এই ঘোষণার পরপরই বেশকিছু দোকান খুলতে দেখা যায়।
তবে বিকালে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষের ঘটনা পূর্ণ সুরাহা না করে নিউমার্কেটের দোকান খোলা হলে আবারও বিক্ষোভে নামার হুঁশিয়ারি দেন।
শিক্ষার্থীদের একটি সূত্র জানায়, বিকাল পাঁচটার দিকে কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ টি এম মইনুল হোসেন। বৈঠকে শিক্ষার্থীরা বেশকিছু দাবিদাওয়া তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের ওপর হামলা, কলেজের প্রশাসনিক ভবনে গুলি, টিয়ার শেল ছোড়াসহ এই পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের বিচার করতে হবে। আহত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়া সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নিউমার্কেট খোলা যাবে না।

এদিকে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ জানান, উদ্ভুত ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবী জানানো হবে। তারা বলেন, আমরা শান্তি চাই, এজন্য ইতোমধ্যে আমরা সাদা পতাকা উত্তোলন করেছি।
সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘাত শুরু হয়। রাত পার হয়ে মঙ্গলবারও দিনভর সংঘর্ষ হয়। এতে নাহিদ নামে এক পথচারী কুরিয়ারকর্মী মারা যান। এছাড়া ১৫ সাংবাদিকসহ আহত হন ২০০।
সংঘাতের দুই দিন পরও এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত বিবদমান দুই পক্ষের কেউই অভিযোগ দেয়নি বলে জানিয়েছেন নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ ম কাইয়ুম।
ওসি কাইয়ুম বলেন, ‘গত দুদিনের ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা বা কলেজ কর্র্তপক্ষ থেকে কেউই থানায় কোনো অভিযোগ দেননি।’
এদিকে নিউমার্কেট এলাকায় বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিবদমান কোনো পক্ষের উপস্থিতিই ছিল না। সড়কে যান চলাচলও করছে। এছাড়া বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
তবে বিকালে সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা কলেজে পরপর বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ককটেল বিস্ফোরণের পর সকালে স্বাভাবিক হওয়া যান চলাচল ফের কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।