
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২২, ১৭:২২

আসন্ন ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে বাড়িফেরা মানুষের ভোগান্তি কমাতে ঈদের আগের তিন দিন ও ঈদের পরের তিন করে মোট সাত দিন দৌলতদিয়া- পাটুরিয়া নৌরুটে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক। তবে শুধু কাঁচামাল বোঝাই ট্রাক পার হতে পারবে। এবং দৌলতদিয়া ঘাটে নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রতিবারের মতো এবারও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
এছাড়াও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে ছোট-বড় ২১ টি ফেরি ও ৩৩টি লঞ্চ চলাচল করবে। ফেরিগুলোর মধ্যে ১২টি রো-রো (বড় ফেরি) ফেরি, ৬টি ইউটিলিটি, ২টি টানা (ডাম্প) ফেরি সহ একটি ছোট ফেরি চলাচল করবে।
বর্তমান এই নৌরুটে ছোট-বড় মিলে মোট ১৯টি ফেরি চলাচল করছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তবে ঈদে ২১টি ফেরি চলাচল করলে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।আজ সোমবার (১৮ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর-২০২২ উপলক্ষে সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) প্রফুল্ল চৌহান বলেন, বর্তমানে এই নৌরুটে ১৯ টি ফেরি চলাচল করছে। ঈদ উপলক্ষে এক সপ্তাহের মধ্যে বহরে আরো ২ টি ফেরি যুক্ত হবে। মোট ২১ টি ফেরি নিয়মিতভাবে চলাচল করলে ভোগান্তি ছাড়াই সবাই নির্বিগ্নে ঘরে ফিরতে পারবে বলে মনে করছি।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাহউদ্দিন, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিজুল হক খান, গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র মো. নজরুল ইসলাম মন্ডল, এনএসআই রাজবাড়ী অফিসের উপপরিচালক শরিফুল ইসলাম, বিআইডাব্লিউটিএ এর পোর্ট অফিসার শাহ আলম মিয়া, রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুলস্নাহ আল আমিন, রাজবাড়ী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হাসানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আলোচনা হয় দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ঈদ আসলেই সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সেগুলো বন্ধ করার জন্য ব্যাবস্থা গ্রহণসহ দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট ও ফেরিঘাট থেকে বাংলাদেশ হ্যাচারিজ পর্যন্ত পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নিলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে স্বাভাবিক সময়েই হাজার হাজার যানবাহন, লাখ লাখ মানুষ নদী পারাপার হয়। কিন্তু ঈদ আসলে তা বেরে দাঁড়ায় কয়েক গুনে। যেহেতু শিমুলিয়া কাঠালবাড়ি নৌরুটে ভারি যানবাহন পারাপার বন্ধ। সেজন্য দৌলতদিয়া- পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহনের চাপ পড়তে পারে। তবে বাড়তি চাপ সামাল দিতে সকল প্রস্তুতি থাকবে বলে আশা করেন তিনি।
রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী বলেন, দৌলতদিয়ি ঘাটের সাথে জরিত বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটি’এ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জেলা প্রশাসন পুলিশ প্রশাসন সকলে মিলে সমন্বয় করে কাজ করলে আশা করি ঘাটে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা ঘটবে না। ঈদ যাত্রায় যাত্রীদের কোন ভোগান্তি যেন না হয় সেদিকে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ সহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কাজ করে যাবেন।