
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২২, ২১:৫৩

বর্ষবরণ উপলক্ষে রাজবাড়ীতে প্রায় দুই শত বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে মেলা, আর প্রায় ৩০ বছর যাবৎ অনুষ্ঠিত হচ্ছে চরক পূজা। এই পূজার মূল আকর্ষণ হচ্ছে পিঠে বড়শী দিয়ে আটকিয়ে চরকিতে ঘোরা। এই পূজা আর মেলা দেখতে সেই সাথে গ্রামীণ তৈজসপত্র ক্রয় করতে অনেক দূর দুরান্ত থেকে আসে হাজার হাজার মানুষ।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের কাটাখালি প্রেমচড়ন ফকিরের বাড়ীর পাশের মাঠে চড়ক পূজা ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্টিত হয়।
বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) দিনব্যাপী এ মেলা ও পূজার আয়োজন করা হয়েছে। বিকালে মেলার মাঠে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা চরক পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ চড়ক পূজাকে কেন্দ্র করে সেখানে মেলা বসানো হয়। স্থানীয় ভাষায় এ মেলাকে বলা হয় পিঠফোঁড়া মেলা। এর আগে চড়ক পূজা করা হয়। পূজার পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কালী, শীতলা এবং বুড়ি দেবীর পূজা করা হয়। একইসঙ্গে এবার তিনজনের পিঠ ফুটো করে চড়কে ঘোরানো হয় তার পূজাও করা হয়।
মেলায় আগত সুজিত কুমার বলেন, আমি এই মেলা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। মহামারি করোনার কারণে গত দুই বছর মেলা হয়নি। এবার মেলা হওয়ায় ভালোই লাগছে। সহপরিবার নিয়ে এসেছি, ভগবানের কাছে প্রার্থনা করছি।


মেলায় আসা আরো দর্শনার্থীরা জানান, শরীরের মধ্যে বরশি এবং শিক বিধিয়ে চরকীতে ঘোরা বিষয়টি শুললেই গা শিউরে উঠে তাই দূর দুরান্ত থেকে ছুটে আসে মানুষ, পুজোর পাশাপাশি মেলাটি শান্তিপূর্ণভাবে উপভোগ করেন।
মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাদল ফকির জানান, চরক পুজায় যাদের বড়শী বিধিয়ে চরকীতে ঘোরানো হয় তারা এক সপ্তাহ যাবৎ উপবাস করে থাকেন। প্রতি বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা বাংলা সনের চৈত্রসংক্রান্তির মাঝামাঝি সময় প্রায় ৩০ বছর ধরে এই চড়ক পূজা ও মেলার আয়োজন করে। তারই অংশ হিসেবে এই চড়ক মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মেলা উপভোগ করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে দেখা যায়, সেই সঙ্গে চড়ক মেলাকে কেন্দ্র করে মেলায় রকমারি দোকান বসে। তিনি আরো বলেন, এই মেলাটি রাজবাড়ী জেলার মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন এবং সবচেয়ে বেশি লোকের সমাগম হয়। সকলে শান্তিপ্রিয়ভাবে মেলায় এসে আনন্দ উপভোগ করে।