
প্রকাশ: ৯ এপ্রিল ২০২২, ১:৪

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহি দুর্গাসাগরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাষ্টমী স্নানোৎসবে পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে। প্রতি বছর চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে সনাতন ধর্মালম্বিরা পাপ মুক্ত হওয়ার কামনায় এ দূর্গা স্নানে মিলিত হয়। শনিবার সকাল থেকে দুর্গাসাগরে স্নানোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। স্নানোৎসবকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত দুই বছর করোনা মহামারীর কারণে এ আয়োজন করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে এ বছর হাজার হাজার পুন্যার্থীদের সমাগমে মিলন মেলায় পরিনত হয় দূর্গা সাগর পার। পুণ্যার্থীরা ফুল, বেলপাতা, ধান, দুর্বা, ডাব, ফলসহ স্নান করতে দুর্গাসাগরে নামছেন।
পুজারী কার্তিক ঠাকুর বলেন, হিন্দু ধর্মালম্বীদের মতে এখন থেকে ৫’শ বছর পূর্বে রাজা সতীন্দ্র নারায়ন রায়ের পূর্বের বাংলার বার ভূইয়ার এক ভূইয়া রাজা কন্দপ নারায়ন রায় ও মাধব নারায়নের বাংলার চন্দ্রদ্বীপ এর রাজধানী এই মাধপপাশা গ্রামে ছিল। পরে রাজা মাধপ নারায়ন রায়ের নাম অনুসারে নাম হয় মাধপপাশা গ্রাম। বর্তমানে তার বংশধর দিলীপ কুমার রায় ও প্রদিপ কুমার রায়ের নেতৃত্বে এখানে পূন্যস্নান ও মেলা হয়ে আসছে।
এদিকে তীর্থস্নান উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও আয়োজন করা হয়েছে দুই দিন ব্যাপি লোকমেলা। মেলায় বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এসে তাদের পসরা সাজিয়ে বসে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে। মেলায় শিশুদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা, সাজগোজের বিভিন্ন সামগ্রী, ফার্নিচার সামগ্রী, বিভিন্ন ধরনের খাবার সামগ্রী, শীতল পাটি, মাটির তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্র বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া মেলায় নাগোরদোলা, চরকিসহ বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্নর দোকান বসে মাঠ জুড়ে।
স্নানৎসব আয়োজন কমিটির সভাপতি স্থানীয় মাধবপাশা ৬ নং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ আদী যুগ ধরে এ স্নানৎসব চলে আসছে। গত দুই বছর করোনার কারনে এ স্নানৎসবের আয়োজন করা হয়নি। তাই লোকসংখ্যা এবারে বেশি হয়েছে। এছাড়া উৎসবস্থলে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ব্যাপক পরিমাণ পুলিশ, আনসার ও স্থানীয় ভলান্টিয়ার।