
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২১, ২:৩২

ভূঞাপুরে যমুনার চরে কাশফুল দোল খাচ্ছে। ভূঞাপুরে ঋতু পরিবর্তনের হাওয়ায় এখন বইছে শরৎকাল। শরতের নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘের ভেলা।
মাত্র কয়েকদিন আগে যমুনা নদী পানিতে টইটম্বুর ছিলো।এখন কমে গেছে পানি।যমুনার চরে বিভিন্ন জায়গায় কাঁশফুলের সমারোহ দেখা যাচ্ছে।পূর্ব-পশ্চিম,উত্তর -দক্ষিণ চারপাশে পানি থাকলেও মাঝখানের চরে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে কাঁশফুল।
শরতে জেগে ওঠেছে গোটা প্রকৃতি। আর এই প্রকৃতিকে বর্ণিল করে তুলতে ভূঞাপুরের যমুনা নদীর চরে বেশ কয়েকটি জায়গায় ফুটে উঠেছে শরতের কাশফুল। শরতের বিকালে নীল আকাশের নিচে সুবিশাল যমুনা নদের অববাহিকায় দোল খাচ্ছে শুভ্র কাশফুল।
এ যেন মেঘের নিরুদ্ধেশ যাত্রা, প্রকৃতিতে এখন চলছে শুভ্র সুন্দর কাশবনের মন মাতানো রূপের খেলা। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চারপাশে পানি থইথই করছে।মাঝখানে জেগে ওঠা চরে যেন অপরুপ সৌন্দর্য। এ যেন রুপকথার গল্পের মতো। শরতের নীল আকাশের নিচে কাশফুলের রূপ সহজেই যে কারো চিত্তে দোলা দিচ্ছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
এই দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর কাছেই সারি সারি কাশফুলের সমারোহ যেন সাদা শাড়ি পড়ে কাউকে অভিবাঁধন জানাতে প্রস্তুত। তাইতো শরতের বন্দনায় অসংখ্য কবি-সাহিত্যিক বিমোচিত হয়েছেন বারবার। লিখেছেন কবিরা। গল্পসহ নানা গান। বর্ষা শেষে শরৎ আসে বলেই গাছের পাতারা হয় আরও স্নিগ্ধ, সজীব।

চোখ মেলেই দেখা হয় কাশফুলের মাঝে রূপসী প্রজাতি কিংবা ফড়িংয়ের সাথে। আর আকাশে আকাশে ধবধবে সাদা মেঘের শত দল আর মাটিতে মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুল। যে চোখ ধাধানো সৌর্ন্দয্য তা না দেখলে বোঝা যাবে না । দিগন্ত বিস্তৃত যমুনার চরে কাঁশফুল নির্মিষেই মুগ্ধ করেছে। তাই প্রতিদিন বিকাল হলেই স্বামী-স্ত্রী ,তরুণ-তরুণীরা এ কাঁশবনে ভীড় জমাচ্ছে তারা। দু'চোখ ভরে শুভ্রতা দেখার বাসনা হোক আর কাশফুলের সাদা ক্যানভাসে নিজেকে ছবির ফ্রেমে বন্দি করার ইচ্ছেই হোক ,দল বেঁধে ছুটে আসছে বার বার। নানা রকম কোলাহল ছেড়েও অনেকে পরিবার নিয়ে ছুটে আসছে কাশফুৃলের রাজ্যে। হাটঁতে হাঁটতে অনেকেই ক্ষণিক হারিয়ে যান জীবনের ফেলে আসা দুঃখ ব্যাথা।স্মৃতির পাতায় অনেকেই হারিয়ে যাচ্ছে নিজের ফেলে আসা শৈশবের কাঁশবনে।
নিকরাইল শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোনায়েম সরকার জানান, শরৎ হচ্ছে শুভ্রতা ও পবিত্রতা প্রতীক।শুভ্র সফেদ কাশফুলের ঢেউয়ের দোল খেলতে দেখা যায় শরতের এই সময়ে।দেখতে মন চায় আর তাই নদী পাড়ি দিয়ে চলে আসি।
এ ছাড়াও কাশবনে ঘুরতে আসা শামীম হোসাইন বলেন, আত্মার প্রশান্তি আর মনের খোরাক জোগাতে গোপালপুর থেকে এসেছি যমুনার চরে কাঁশফুল দেখতে।চারপাশে নদীর পানি আর মাঝখানে চরে জেগে ওঠা কাঁশফুল যেন অপরুপ সৌন্দর্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।শরৎ জুড়ে আকাশে নীল-সাদা মেঘের ভেলা মুগ্ধতা ছড়াবে আমাদের প্রকৃতিতে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে ভালো লাগছে।
নারান্দিয়া থেকে আসা অসীম কুমার মদক জানান,যমুনার চরে কাঁশফুল দেখার মজাটাই আলাদা। না দেখলে বুঝতাম না এতো সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কাশবন এখানে গড়ে উঠেছে।