
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২১, ৩:৫৬

মানিকগঞ্জের জামশায় নিজ বাড়িতেই দাফন করা হবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং নাট্যকার ড. আফসার আহমেদকে।
শনিবার সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আজ রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বাসভবনে তার মরদেহ রাখা হবে।
গতকাল রোববার দাফনের আগে নিজ গ্রামে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তারপর সেখানে তাকে দাফন করা হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবাল এসব তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, মরদেহ মানিকগঞ্জে নিয়ে যাওয়ার আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এশার নামাজের পর প্রয়াত আফসার আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই মরদেহ নিয়ে মানিকগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শীক্ষার্থীদের একটি দল।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
এর আগে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নাট্যকার আফসারের মরদেহ রাখা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবনের সামনে। সেখানেই হয় জানাজা ও দাফনের সিদ্ধান্ত।
শনিবার দুপুরে অধ্যাপক আফসার আহমেদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তার জামাতা হিমেল মাহবুব। বেলা পৌনে তিনটার দিকে হিমেলের দেওয়া তথ্য মতে, আল-মারকাজুল ইসলামীতে গোসল করিয়ে ড. আফসারের মরদেহ নেয়া হয় তার কর্মস্থল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

সাবেক শিক্ষার্থী কমলেশ রায়ের বিয়ে উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে খুলনায় গিয়েছিলেন আফসার আহমেদ। শুক্রবার কমলেশের বিয়ের আশীর্বাদে অংশ নেন তিনি।
আফসার আহমেদের সাবেক শিক্ষার্থী মাসুদ নিক্সন জানান, শনিবার সকালে খুলনা থেকে যশোর গিয়ে সাড়ে ১০টার ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন অধ্যাপক। বিমানেই তার হার্ট অ্যাটাক হয়। পরে ঢাকায় পৌঁছে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়।
আফসার আহমেদের বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার উত্তর জামশা গ্রামে ১৯৫৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জন্ম হয় তার।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন আফসার। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ‘মধ্যযুগের বাংলা আখ্যান কাব্যের আলোকে বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠী নাট্য’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য তাকে পিএইচডি ডিগ্রি দেয়া হয়।
আফসার আহমেদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীকালে রবীন্দ্রোত্তর কালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ড. সেলিম আল দীনের সঙ্গে ১৯৮৬-৮৭ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রতিষ্ঠাকাল থেকে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে শিক্ষকতায় ছিলেন। তিনি বিভাগের সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন, প্রক্টর, সিনেট-সিন্ডিকেটের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ড. আফসার একাধারে কবি, নাট্যকার, অনুবাদক, গবেষক ও সাহিত্য সমালোচক ছিলেন।