প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২১, ২১:৪
প্রেম সংক্রান্ত বিষয়ে সালিশ করতে গিয়ে কিশোরীকে বিয়ে করে সমালোচিত পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে (৬০) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২২ আগস্ট) পটুয়াখালীর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করেন ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারসহ ছয় আসামি। জামিন না মঞ্জুর করে ছয় আসামিকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ রোখসানা পারভীন।
অন্য আসামিরা হলেন- কনকদিয়া ইউনিয়নের সচিব মো. মজিবুর রহমান, সাবেক উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান, কনকদিয়া ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মো. আশরাফুল আলম ওরফে কামাল ও মেজবাহ উদ্দিন তালুকদার।রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী ছিলেন কে বি এম আরিফুল হক। আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো. মজিবুর রহমান ওরফে টোটন ও মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার।
ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের অক্টোবরে হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রির কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর তদন্তে নামে দুদক।দুদক অভিযোগের সত্যতা পেয়ে শাহিন হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি শাহিন হাওলাদার গ্রেফতার হন।
ওই মামলায় একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মানিক লাল দাস।এছাড়া ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর কনকদিয়া বাজারে মো. আনছার উদ্দিন (৪৯) নামে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তাকে শাহিন হাওলাদার প্রকাশ্যে মারধর করেন। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগ আনছার উদ্দিন মামলা করেন। ওই মামলায়ও শাহিন গ্রেফতার হয়েছিলেন।
চলতি বছরের ২৪ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুল হককে (৭০) কনকদিয়া বাজারে প্রকাশ্যে মারধর করে আবারও আলোচনায় আসেন শাহিন হাওলাদার। ওই ঘটনায় ফজলুল হক আদালতে মামলা করেছেন।সর্বশেষ গত ২৫ জুন প্রেম সংক্রান্ত বিষয়ে সালিশ করতে গিয়ে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে শাহিন হাওলাদার নিজেই বিয়ে করে বসেন। অবশ্য পরের দিনই ওই কিশোরী চেয়ারম্যানকে তালাক দেয়। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচিত হন তিনি।