
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১৯:৫১

কুমিল্লার দেবীদ্বারে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিয়ে এক পরিবারকে চৌচালা টিনের ঘর উপহার দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মানবতার ফেরিওয়ালা নামে খ্যাত ও করোনা যোদ্ধা ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার। যার হৃদয় কাঁদে স্রষ্টার প্রতিটি সৃষ্টির প্রতি।
সেই দূর আমেরিকা প্রবাসে থেকেও মাতৃভূমির মায়ার টানে আবদ্ধ তিনি। তার মায়ার ডোরে বেধেছে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে। তারই প্রেক্ষিতে তিনি এবার পাশে এসে দাঁড়ালেন ঘরহীন অনামিকা দত্তের পাশে।
আমেরিকা প্রবাসী ডা. ফেরদৌস খন্দকার 'মানবতাই ধর্ম'এই স্লোগানকে সামনে নিয়ে দেবীদ্বার গ্রীন টিম এর মাধ্যমে এক অসহায় ঘরহীন দরিদ্র পরিবারের থাকার জন্য চৌচালা টিনের ঘর, সাথে রান্নাঘর ও আসবাবপত্র, খাদ্য সামগ্রী এবং হাঁস মুরগি সহ খামার ব্যবস্থাপনা তৈরি করে দেন।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
তাদের চার শতাংশ জমি থাকলেও ঘর তৈরি করার সামর্থ্য ছিলনা। গত মঙ্গলবার নারীনেত্রী শাহিনুর আক্তার লিপির সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের দত্তবাড়ির আশীষ কুমার দত্তের স্ত্রী সবিতা রানী দত্তের নিকট ওই ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা শ্রমিক লীগের সদস্য-সচিব শাহিনুর আক্তার লিপি, দেবীদ্বার গ্রীন টিমের কর্মী সুজিত পোদ্দার, আশেক-ই-এলাহী, শিপলু খান, সুলতান আহমেদ, আব্দুর রহমান ভূঁইয়া, শারমিন আক্তার রিমা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ঘর পেয়ে অনামিকা রানী দত্তের মা সবিতা রানীর দু'চোখ বেয়ে আনন্দে অশ্রুজল ঝরে পড়েছ। আনন্দে আত্মহারা হয়ে অঝোরে কাঁদলেন তিনি।

তিনি অশ্রুসিক্ত কন্ঠে জানান, দারিদ্রতার চরম হতাশা নিয়ে তার বিবাহযোগ্য কন্যা কে নিয়ে মানুষের রান্নাঘরে ও পরিত্যক্ত ঘরে রাত্রি যাপন করতে হয়েছে তাকে। পারিবারিক অবস্থান গত কারণে কারো নিকট সাহায্য চাইতে পারেনি তিনি। স্বজাতির বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালাতে হয়েছে, অনেক সময় রাত্রিযাপন করেছে স্বজাতির রান্নাঘর কিংবা পরিত্যক্ত ঘরে।
তিনি আরো জানান, স্বামী আশীষ কুমার দত্ত ঢাকায় একটি মিষ্টি দোকানে ৩ হাজার টাকায় চাকরি করেন। একমাত্র বিবাহযোগ্য কন্যা অনামিকা দত্ত এলাহাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীতে লেখাপড়া করেন। বিবাহযোগ্য অনামিকা দত্তের কষ্টের কথা স্থানীয় নারীনেত্রীদের মাধ্যমে মানবতার ফেরিওয়ালা খ্যাত ডা. ফেরদৌস অবগত হয়ে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
আবাসন বিতরণের সময় ভিডিও কনফারেন্সে ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন। শুধু আমার এলাকাতেই নয়। আপনাদের জানামতে যে কোন এলাকায়। যারা পারিবারিক বা সামাজিক ঐতিহ্যগত কারণে নিজের কষ্ট অভাবের কথা বুকে চাপা রাখেন। অভাবের কথা কাউকে বলতে পারেন না। কোন ধরনের সংকোচ ছাড়াই তাদের সংকট ঘোচাতে নীরবে আমাকে জানাবেন। কোন ধরনের প্রচারণা ছাড়াই তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেব। আমার সহযোগিতা বা সুবিধাভোগীদের নাম পরিচয় গোপন রেখেই সকলকে কাজ করার আহবান করেন। এবং অনামিকা দত্তকে সামনে সুন্দর আগামী স্বপ্নের পথ চলতে বলেন তিনি।
অনামিকা দত্ত বলেন, আগে আমার পড়ালেখা করতে অনেক সমস্যা হতো। ঘরের অভাবে কোথায় বসে পড়ব এমন একটি জায়গা পাইনি। ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার স্যারের প্রতি আমি ও আমার পরিবার কৃতজ্ঞ।
#ইনিউজ৭১/জিয়া/২০২১