
প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২১, ১৫:৫৬

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ঐহিত্যবাহী তাঁত সমৃদ্ধ এলাকায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে তাঁত শিল্পের উপকরণের মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাপ দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন তাঁত মালিকরা। যে হারে উপকরণের মুল্য বৃদ্ধি পেয়েছে,সে হারে উৎপাদিত কাপড়ের মুল্য বাজারে না পাওয়ায় তাঁত মালিকরা এ পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,উপজেলার,বালসাবাড়ী,নেওয়ারগাছা,পাইকপাড়া,দাঁতপুর,নতুন দাঁতপুর,ইসলামপুর,মহেশপুর,গাড়লগাঁতী,এনায়েতপুর সহ অনেক এলাকা তাঁত সমৃদ্ধ হিসেবে পরিচিত। এ সব এলাকায় তাঁত শিল্পে বাহারি রকমের শাড়ী,লুঙ্গি, গামছা, উৎপাদিত হয়ে থাকে। সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে খট খট শব্দে মুখরিত হয়ে যেত এসব এলাকা।
কিন্তু বর্তমানে তাঁত শিল্পের ধস নামায় এ শব্দ তেমন আর শোনা যায় না। উৎপাদিত এসব পন্য স্থানীয় শাহজাদপুর হাট সহ বিভিন্ন কাপড়ের হাটে বিক্রি হয়ে থাকে। আর এসব হাট থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা কাপড় কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে এবং বিদেশেও রপ্তানী করে থাকে।
এবিষয়ে কথা হয় পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের তাঁত মালিক হোসেন আলী,হাফিজুল ও ইয়ামিন শেখের সাথে তারা বলেন,আগে একসময় হাটে কাপড়ের অনেক চাহিদা ছিলো তাই তাঁত মালিকদের কদরও ছিলো বেশ। কিন্তু বর্তামানে যে হারে উপকরণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে সে হারে কাপড়ের মুল্য বাজারে নেই, এবং সিন্ডিকেটের কারণে এ শিল্প এখন ধংশের দিকে।

কাপড় বিক্রি করে পরিবহন ভাড়া তুলতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে।সেই সাথে ব্যাংক থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তাঁত মালিকরা। আর এসব কারনেই হারাতে বসেছে ঐতিহ্য এই তাঁত শিল্প। তাই অনেক তাঁত মালিকরা বাপ-দাদার এ পেশা ছেড়ে বাড়ি ঘর রেখে ঢাকা পাড়ি জামাচ্ছেন। অনেক মালিকের বাসায় গিয়ে দেখা যায় বাসার দরজায় তালা ঝুলছেন।
এসময় কথা হয় শিবপুর গ্রামের তাঁত শ্রমিক জলিল মিয়ার সাথে তিনি বলেন,বর্তমান সময়ে বাজারে দ্রব মুল্যের যে হারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে,কিন্তু তাঁত শ্রমিকদের মজুরি কম, কোন বোনাসও নেই। কাজ করলে মহাজন টাকা দেয়, না করলে নাই। এছাড়াও অনেক তাঁত মালিকরা তাঁত বিক্রি করে দিয়েছে। তাঁত শ্রমিক এজন্য পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতন জীবন যাপন করছে।
উল্লাপাড়া তাঁত বোর্ডের লিয়াজোঁ অফিসার জায়দুর রহমান বলেন, উল্লাপাড়া উপজেলায় তাঁতের সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার,আর এই তাঁত শিল্পের সাথে পরক্ষভাবে জড়িতে রয়েছে ১৫ হাজার পরিবার। বর্তমানে তাঁত শিল্পের করুন অবস্থা। রং সুতার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দিশেহারা তাঁত মালিকরা। অনেক তাঁত মালিকরা এর কারনে তাঁত বন্ধ ও বিত্রি করে ফেলেছে। তবে তাঁত শিল্পের ঐতিহ্য ধরে রাখতে তাঁত বোর্ড অফিস থেকে তাঁত মালিকদের সার্বিক সহযোগীতা করা হচ্ছে।