
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১০

মৌলভীবাজারে টানা দুই দিনের বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে বোরোধান কাটা ও মাড়াই কার্যক্রমে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। এতে করে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন জেলার কৃষকরা।
বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে পরিস্থিতি বেশি সংকটজনক হয়ে উঠেছে। অব্যাহত বৃষ্টি হলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও আগাম বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ধান ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
জেলার হাকালুকি, কাউয়াদিঘী ও হাইল হাওর এলাকায় ইতোমধ্যে ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষকেরা কাজের গতি ধরে রাখতে পারছেন না।
ধান কাটা শেষ করলেও নতুন সমস্যায় পড়ছেন অনেক কৃষক। বৃষ্টির কারণে তারা ধান মাড়াই কিংবা রোদে শুকানোর সুযোগ পাচ্ছেন না, ফলে ফসল সংরক্ষণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে যেসব জমিতে এখনো ধান কাটা হয়নি, সেগুলোও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বৃষ্টির কারণে মাঠে জমে থাকা পানির মধ্যেই ধান কাটতে হচ্ছে, যা শ্রমিকদের জন্যও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় প্রায় ৭৭ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে, তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় বাকি অংশ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
কমলগঞ্জের এক কৃষক জানান, তিনি অল্প জমিতে ধান চাষ করেও আশানুরূপ ফলন পাননি। এর মধ্যে খারাপ আবহাওয়ার কারণে পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ধান কাটতে হচ্ছে, যা খরচ ও কষ্ট দুটোই বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আগাম সতর্কতার কারণে অনেক কৃষক ধান কেটে ফেলতে পেরেছেন। তবে বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী না হলে ক্ষতির পরিমাণ সীমিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।