
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২১, ২১:৫৮

নওগাঁয় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল আকতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আটকরা হলেন- জেলার পোরশা উপজেলার বালিয়াচান্দা গ্রামের নিহতের স্ত্রী ফাহিমা খাতুন, ছেলে খাইরুল ইসলাম, মেয়ে নাজমা বেগম ও মেয়ে জামাই মোদাচ্ছের আলী। মঙ্গলবার (০৯ মার্চ) রাতে তাদের আটক করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজেত পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৫ ফেব্রুয়ারী জেলার পোরশা উপজেলার বালিয়াচান্দা গ্রামের আব্দুল খালেক (৫০) নিখোঁজ হয়। ঘটনায় তার ছেলে মাদ্রাসার শিক্ষক খাইরুল ইসলাম (২৮) ৮ মার্চ বাবা নিখোঁজ হয়েছে মর্মে পোরশা থানায় সাধারন ডায়েরি করে যার জিডি নং-৩০৯। উক্ত ডায়েরীর বিষয়টি নিযে সন্দেহের সৃষ্টি হলে তার রহস্য উদঘাটনের জন্য জেলা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় এ সময় কথাবার্তায় অসঙ্গতি দেখে কর্তব্যরত পুলিশ তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে।
এক পর্যায়ে খায়রুল ইসলাম জানায় তিনি, তার মা, বোন ও বোন জামাই মিলে তাদের বাবাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। পরে রাতের অন্ধকারে মরদেহ বস্তাবন্দী করে পাশ^বর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শ্রীরামপুর মাদ্রাসার পাশে একটি খালে ফেলে আসে। পরে পানির তোড়ে ভেসে যাওয়া মরদেহটি কয়েকদিন পর পুলিশ উদ্ধার করে বেওয়ারিশ হিসেবে চিহ্নিত করে ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল আকতার বলেন, আব্দুল খালেক সন্দেহ গত ৫ বছর ধরে তার স্ত্রী ফাহিমা খাতুনের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ আনেন। এই কারনে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। গত ২৭ জানুয়ারী ঝগড়ার এক পর্যায়ে আব্দুল খালেক মৌখিকভাবে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে ছেলে ও মেয়ে বাড়িতে এসে তাদের বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে মাকে উঠিয়ে দেয়।

এরপর থেকে কিছুদিন আব্দুল খালেক প্রতিবেশীর বাড়িতে বসবাস করতে থাকে। এরমধ্যে ছেলে-মেয়েরা বিষয়টি মিমাংসা করে আব্দুল খালেককে তাদের মায়ের সাথে সংসার করতে অনুরোধ করে। গত ৪ ফেব্রুয়ারী রাতে আব্দুল খালেককে পুনরায় বাড়িতে ডেকে নিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করা হয়। তাদের প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রী ফাহিমা খাতুন,
ছেলে খাইরুল ইসলাম, মেয়ে নাজমা বেগম ও জামাতা মোদাচ্ছের আলী গলায় মাফলার জড়িয়ে শা¦সরুদ্ধ করে হত্যা করে। পরে আব্দুল খালেককের মরদেহ বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে ফেলে দিয়ে আসে। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম মামুন খান চিশতী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুরাইয়া আকতার, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (সাপহার সার্কেল) বিজয় কুমারসহ পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁ।
১০.০৩.২১