চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় একদিনের ব্যবধানে আবারও গুলিতে নিহত হয়েছেন নাছির উদ্দীন (৪৫) নামে এক যুবদল কর্মী। রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমশেরপাড়া গ্রামের পূর্ব পাশে আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত নাছির উদ্দীন একই এলাকার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে। কোনো আনুষ্ঠানিক পদ না থাকলেও স্থানীয়ভাবে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কদলপুর ইউনিয়নে শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান গ্রুপ ও জানে আলম গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, পাহাড় ও কৃষিজমি কেটে মাটির ব্যবসা, বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজি নিয়ে সংঘর্ষ বেড়ে যায়। নিহত নাছির উদ্দীনকে রায়হান গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচিত করা হয়।
রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসাইন জানান, তার তলপেট ও পায়ে একাধিক গুলি লাগে এবং গুরুতর রক্তক্ষরণ হয়।
চট্টগ্রাম জেলা (উত্তর) যুবদলের সহ-সভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, নাছির উদ্দীন দলের পরীক্ষিত কর্মী ছিলেন এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং হত্যার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ছয়টি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন শনিবার ভোরে রাউজান পৌরসভার আইলীখীল গ্রামে মুহাম্মদ কাউসার উজ জামান বাবলু (৩৬) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।