
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪৮

দেশজুড়ে হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে একাধিক স্থানে বজ্রপাতের ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি অনেকেই আহত হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে গাইবান্ধা জেলায়, যেখানে পৃথক বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার সাদুল্লাপুর, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাংগা এলাকায় বাড়ির বারান্দায় খেলা করার সময় বজ্রপাতে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন ফুয়াদ ও তার চাচাতো ভাই রাফি। হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে তারা গুরুতর আহত হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, দুপুরের দিকে বৃষ্টির সময় শিশুরা বাড়ির বারান্দায় অবস্থান করছিল। বজ্রপাতের তীব্রতায় তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া এলাকায় জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মিজানুর রহমান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একইভাবে ফুলছড়ি উপজেলার বুলবুলির চরে কৃষক আলী আকবর বজ্রপাতে নিহত হন।
এছাড়া সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যাদের একজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গাইবান্ধার বাইরে সিরাজগঞ্জ ও জামালপুর জেলায় পৃথক বজ্রপাতে দুইজন করে মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নাটোরের সিংড়া, বগুড়ার গাবতলী এবং পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় একজন করে নিহত হয়েছেন।
প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বজ্রপাতের সময় অনেকেই খোলা স্থানে কাজ করছিলেন বা বাইরে অবস্থান করছিলেন, যা প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এ সময়ে সচেতন থাকার এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।