
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৮:২৮

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ২ মুরালের খরচ ১১৬ কোটি টাকা : অনিয়মের তদন্ত শুরু। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে নির্মিত দু'টি ম্যুরাল ও উদ্বোধনী স্থাপনায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার তদন্ত শুরু করেছে। যোগাযোগ উপদেষ্টা দ্রুততার সাথে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, উল্লেখ করে যে এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়নি।
সম্প্রতি, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের তাড়াহুড়োয় কোনরকম টেন্ডার ছাড়াই একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠানের কাছে কাজের বরাত দেয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ‘বালিশকাণ্ড’ নামে পরিচিত একটি বিতর্কিত ঘটনার সাথে জড়িত। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের পুরো টাকা তুলে নিয়ে কাজ সম্পন্ন করেনি।
প্রথমে জানা যায় যে, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের জন্য যে দুটি ম্যুরাল ও স্থাপনাগুলি নির্মিত হয়েছে, সেগুলি প্রকল্পের প্রকৃত অংশ ছিল না। সেতুর উদ্বোধনের জন্য গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সের তাড়াহুড়োয়, স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে বরাত দেয়া হয় একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের কাছে, যা পরে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
প্রকল্পের আওতায় না থাকা এসব স্থাপনা নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে যা এখন সরকারের কাছে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। এই অনিয়মের তদন্তে নিযুক্ত কর্মকর্তারা উদ্বোধনী স্থাপনাগুলোর নির্মাণে ব্যবহৃত ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন।


সংবাদমাধ্যমকে যোগাযোগ উপদেষ্টা বলেন, “এমন ধরনের অস্বচ্ছতা ও অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। আমরা বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।”
প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারাও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে আরো কঠোর নিয়মকানুন প্রবর্তন করা হবে।
এছাড়াও, যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে সরকারের তরফ থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে যে, যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনা দেশজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং দেশের বিভিন্ন স্তরের নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সরকার আশা করছে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানো যাবে।