https://enews71.com/storage/ads/01JQ1TK8B83CTTQWN3SJNRKSQ9.gif

অধীনস্থদের প্রতি মালিকদের আচরণ যেমন হবে

Ziaul Hoque
জিয়াউল হক, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:১৬

শেয়ার করুনঃ
অধীনস্থদের প্রতি মালিকদের আচরণ যেমন হবে
ইসলামি জীবন বিধানে মর্যাদা নিরূপণ করা হয় তাকওয়া ভিত্তিতে। অর্থাৎ যে কোনো কাজের ব্যাপারে কে কতবেশি আল্লাহকে ভয় করে, সে হিসেবে মানুষের মর্যাদাও নির্ণয় করা হয়। আর এ কারণেই দ্বীনদার মুসলিম উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা মালিকগণ তাদের অধীনস্থদের সঙ্গে কোনো ধরণের অন্যায় আচরণ বা বে-ইনসাফি কাজ করতে পারে না। বর্তমান সময়ে ক্রীতদাস প্রথার প্রচলন নেই। কিন্তু এখনো মানুষ অন্যের অধীনে জীবিকা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে কাজ-কর্মে নিয়োজিত হয়। আর এ সব অধীনস্থদের সঙ্গে অনেক মালিক বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিভিন্ন কারণে-অকারণে জুলুম অত্যাচার করে থাকে। ইসলাম কোনোভাবেই অধীনস্থদের প্রতি জুলুম-অত্যাচার সমর্থন করে না।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস থেকে জানায় যে, অধীনস্থদের প্রতি কেমন আচরণ করা উচিত। প্রিয়নবি অধীনস্থদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছেন। কেমন আচরণ করা মুসলিম উম্মাহর জন্য প্রিয়নবির আদর্শ। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তারা (অধীনস্থরা) তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। কাজেই আল্লাহ যার ভাইকে তার অধীনস্থ করে দিয়েছে, তার (মালিক/দায়িত্বশীল কর্মকর্তার) উচিত, তাকে (অধীনস্থকে) তা-ই খাওয়ানো যা সে নিজে খায় এবং তাকে (অধীনস্থকে) তা-ই পরিধান করানো যা সে নিজে পরিধান করে। আর তাকে (অধীনস্থকে) এমন কাজের ভার দেবে না, যা তার সাধ্যের বাইরে। যদি কখনো তার ওপর অধিক কাজের দায়িত্ব চাপানো হয় তবে যেন (দায়িত্বশীল ব্যক্তি) তাকে সাহায্য করে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দীর্ঘ দিনের খাদেম ছিলেন হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু। হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আচরণ কেমন ছিল, তা বর্ণনা করে তিনি বলেন-

https://enews71.com/storage/ads/01JQ1TK8B83CTTQWN3SJNRKSQ9.gif
‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দীর্ঘ ১০ বছর খেদমত করেছি। তিনি আমার সম্পর্কে কখনো ‘উহ’ শব্দটি বলেননি এবং কোনো দিন বলেননি যে, এটা করো নি কেন? ওটা করো নি কেন? বরং আমার বহু কাজ তিনি নিজে করে দিতেন।’ (মিশকাত) অধীনস্থ ব্যক্তির প্রতি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা মালিকের আচরণ কেমন হবে তা ইসলামি সম্রাজের খলিফা আমিরুল মুমিনিন হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর জেরুজালেম ভ্রমণে ভৃত্যের সঙ্গে করা আচরণই তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সুতরাং কোনো অধীনস্থের সঙ্গে অন্যায় বা জুলুম করা মালিক বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তার উচিত নয়। বাসাবাড়ির দাড়োয়ান, কাজের বুয়া থেকে শুরু করে সমাজের সর্বোচ্চ স্তরের প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তির উচিত অধীনস্থদের সঙ্গে উত্তম আচরণ ও দয়া দেখানো। আর এতেই অর্জিত হবে তাকওয়া।

যেহেতু ইসলামি জীবন ব্যবস্থায় তাকওয়া তথা আল্লাহর ভয় অর্জনের মাধ্যমেই মানুষের মর্যাদা বিবেচনা করা হয় সেহেতু আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার সব দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা মালিকদেরকে অধীনস্থদের সঙ্গে উত্তম আচরণ ও ক্ষমার মানসিকতা পোষণ করে তাকওয়াবান হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান দুধরচকীর

বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান দুধরচকীর

ইসরায়েলি তাণ্ডব পুনরায় শুরু হওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই আগ্রাসনকে অত্যন্ত বড় ধরনের অপরাধ ও বিপর্যয়কর বলে মন্তব্য করেছেন জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।  তিনি বলেছেন, বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মুসলমান সহ বহিঃবিশ্বে নির্যাতিত মুসলমানদের পাশে ধারানোর আহবান জানিয়েছেন। বিশেষ করে ফিলিস্তিনকে ভালোবাসা, তাদের

ঈদের নামাজের নিয়ম ও ফজিলত

ঈদের নামাজের নিয়ম ও ফজিলত

ঈদের নামাজ ইসলামের অন্যতম বিশেষ ইবাদত, যা দুই রাকাত বিশিষ্ট এবং নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে আদায় করা হয়। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজের মধ্যে সামান্য পার্থক্য থাকলেও উভয় নামাজের মৌলিক নিয়ম এক।   নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা বলার পর হাত বাঁধতে হয় এবং সূরা ফাতিহার পূর্বে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির বলা হয়। প্রথম রাকাতের তিনটি তাকবিরের পর হাত বাঁধতে হয় এবং

রমজানের শিক্ষা: তাকওয়া ও মানবতার বন্ধন

রমজানের শিক্ষা: তাকওয়া ও মানবতার বন্ধন

রমজানের অন্যতম শিক্ষা তাকওয়া অর্জনের পাশাপাশি পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করা। ২৮তম রোজা পার হয়ে মাহে রমজানের শেষ দশকও সমাপ্তির পথে। আমাদের তারাবিহ, তেলাওয়াত, দোয়া ও ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে বলেছেন, অনেকে রোজা রাখলেও কেবল উপোস থাকা ছাড়া তাদের কিছুই অর্জিত হয় না, অনেকে রাত জেগে ইবাদত করলেও নিদ্রাহীনতা

রমজানের শেষ জুমার গুরুত্ব ও ফজিলত

রমজানের শেষ জুমার গুরুত্ব ও ফজিলত

পবিত্র রমজানের শেষ শুক্রবারকে বলা হয় জুমাতুল বিদা। এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি রোজাদারদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে মহিমান্বিত এ মাস বিদায়ের পথে। তাই দিনটির যথাযথ মূল্যায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুমাতুল বিদা উপলক্ষে মুসল্লিরা মসজিদে বিশেষ ইবাদত ও দোয়ায় মশগুল থাকেন।   জুমার দিনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, এটি সপ্তাহের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনে আদম (আ.)-কে

শবে কদরের রাতে রাজধানীর মসজিদে মুসল্লিদের ঢল

শবে কদরের রাতে রাজধানীর মসজিদে মুসল্লিদের ঢল

রাজধানীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে কদর। আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভের আশায় মুসল্লিরা দলে দলে মসজিদে জড়ো হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, ইস্কাটন, বেইলি রোড ও পুরান ঢাকার বেশ কিছু মসজিদে মুসল্লিদের ঢল নামে।   বায়তুল মোকাররম মসজিদে দেখা যায়, মুসল্লিরা উত্তর-দক্ষিণ গেট দিয়ে প্রবেশ করছেন।