
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৮

মানুষের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও গভীর সম্পর্ক হওয়া উচিত মহান আল্লাহর সঙ্গে। তাঁর প্রতি ভালোবাসা, আনুগত্য, কৃতজ্ঞতা ও ভয় অন্তরে ধারণ করার মধ্য দিয়েই একজন মুমিন প্রকৃত ঈমানি জীবনের পরিচয় দেন। ইসলামী চিন্তাবিদ ও লেখক হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী তাঁর আলোচনায় আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং মাতৃগর্ভে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করিয়ে পৃথিবীতে আসার সুযোগ দিয়েছেন। জন্মের আগে থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে মানুষ আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামত ও অনুগ্রহের মধ্যে রয়েছে। তাই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা প্রত্যেক বান্দার দায়িত্ব।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আর আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ১৫২)। এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর স্মরণ ও কৃতজ্ঞতার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে তিনি আরও অনুগ্রহ দান করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। পবিত্র সুরা ইবরাহিমের ৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে নেয়ামত বাড়িয়ে দেওয়া হবে, আর অকৃতজ্ঞতার পরিণতি হবে কঠোর।
মানুষের জীবনে যত নেয়ামত রয়েছে, তার সবই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। সুস্থতা, সম্পদ, পরিবার, খাদ্য, নিরাপত্তা ও জীবনের প্রতিটি সুযোগ তাঁর অনুগ্রহের অংশ। পবিত্র কোরআনের সুরা নাহলের ১৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর নেয়ামত গণনা করতে গেলে মানুষ তা শেষ করতে পারবে না।

আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁকে ভয় করা এবং সব সময় তাঁর উপস্থিতি অনুভব করা। মানুষ প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে যা কিছু করে, মহান আল্লাহ সবই জানেন। তাই কোনো অন্যায় বা পাপ হয়ে গেলে তা অব্যাহত না রেখে অনুতপ্ত হৃদয়ে তাঁর কাছে ফিরে আসা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
একজন প্রকৃত মুমিন আল্লাহর অবাধ্যতাকে নিজের জন্য লজ্জার বিষয় মনে করেন। তিনি ভুল করলে তওবা করেন, ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে সেই ভুল থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখেন এবং তাঁর নির্দেশনা অনুসরণ করেন।
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়, নিয়মিত ইবাদত, আনুগত্য এবং সব ধরনের অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা জরুরি। মহান আল্লাহর রহমতের আশা ও তাঁর শাস্তির ভয় অন্তরে ধারণ করাও ঈমানি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি মুসলিম উম্মাহর প্রতি মহান আল্লাহর নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, তাঁর স্মরণ এবং আনুগত্যের মাধ্যমে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আল্লাহর রহমত লাভ ও অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক কামনা করেন।