
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫

মুসলিম উম্মাহর কাছে শুক্রবার একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ দিন। ইসলামে এ দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলা হয়। জুমার দিন মুসলমানরা মসজিদে সমবেত হয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন, আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হন এবং নিজেদের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, শুক্রবার এমন একটি দিন, যেদিন আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের বিশেষ সুযোগ রয়েছে। তাই এ দিনটি শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও নেক আমলের মাধ্যমে কাটানোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো গোসল করে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যাওয়া। সামর্থ্য অনুযায়ী আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়া, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং জামাতে জুমার নামাজ আদায় করাও গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ও আমল।
এ দিনে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে সূরা আল-কাহফ পাঠ করার ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে বর্ণনা পাওয়া যায়। তাই অনেক মুসলমান শুক্রবারে এ সূরা তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন।

শুক্রবার মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করারও নির্দেশনা রয়েছে। দরুদ পাঠের পাশাপাশি জিকির, তওবা ও ইস্তিগফার এবং নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে দোয়া করা যেতে পারে।
হাদিসে শুক্রবারে এমন একটি সময়ের কথা বলা হয়েছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে তাঁর দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ আশা রয়েছে। তবে সেই নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে আন্তরিকভাবে দোয়া করা উত্তম।

জুমার দিনের শিক্ষা শুধু মসজিদে নামাজ আদায়ের মধ্যেই শেষ নয়। মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ, অসহায়দের সহযোগিতা, প্রতিবেশীর খোঁজখবর নেওয়া, অন্যের অধিকার রক্ষা করা এবং সব ধরনের অন্যায় থেকে বিরত থাকাও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
পবিত্র এই দিনে আসুন, আমরা নিজেদের জীবন পর্যালোচনা করি, ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং সৎকর্মের মাধ্যমে জীবনকে সুন্দর করার অঙ্গীকার করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবার ইবাদত কবুল করুন, গুনাহ মাফ করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন। আমিন।