প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৪৮

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে পরিবার ও সমাজে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরিতে ‘বিশ্বযোগ’ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ)। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সক্ষম করে তুলবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লার দেবীদ্বারে নারী শক্তির আয়োজনে ‘বিশ্বযোগ’ প্রকল্পের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলার বাঙ্গুরি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বিশ্বযোগ’ কেবল নারীদের বিভিন্ন ধরনের কাজ শেখানোর উদ্যোগ নয়; বরং এর মাধ্যমে একটি সমাজ ও জাতির পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নারীরা যখন নিজের আয় নিশ্চিত করতে পারবেন, তখনই এই উদ্যোগের প্রকৃত সার্থকতা আসবে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামের মা, খালা ও বোনদের মধ্যে অনেক সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে। সেলাই, বুটিক, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প ও জুয়েলারিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পেশাদার প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারবেন। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠে বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগও তৈরি হবে।
সংসদ সদস্য বলেন, প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নারীরা নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। তাঁদের হাতে তৈরি পণ্য দেশীয় বাজারের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও পৌঁছাতে পারে।

অনুষ্ঠানে দেবীদ্বারের প্রশিক্ষণার্থীদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প ও নকশিকাঁথা পরিদর্শন করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। এসব পণ্য ‘বিশ্বযোগ’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির দেবীদ্বার উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদ শুভ, দেবীদ্বার পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. রুহুল আমিন, প্রশিক্ষক সালমা ইসলাম এবং নারী শক্তির ফৌজিয়া প্রিতি ও সাবিহা নূরসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ৫০ জন নারীর হাতে ‘বিশ্বযোগ’ প্রকল্পের সনদ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রশিক্ষকদের শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেবীদ্বারের নারীরা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।