
প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪১

ইসলাম শুধু ইবাদতের শিক্ষা দেয় না, মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ারও নির্দেশ দেয়। একজন মুসলমানের উত্তম চরিত্রের অন্যতম প্রকাশ হলো অন্যের উপকারে এগিয়ে আসা। বিপদে থাকা মানুষকে সহযোগিতা করা, অসহায়কে সাহায্য করা এবং মানুষের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করাকে ইসলাম অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচনা করে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘সৎকর্ম ও তাকওয়ায় একে অন্যকে সহযোগিতা করো।’ এই নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়, সমাজে ভালো কাজ প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের কল্যাণে পারস্পরিক সহযোগিতা করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শুধু নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত না থেকে আশপাশের মানুষের প্রয়োজনের প্রতিও নজর দেওয়া ইসলামের সৌন্দর্য।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের উপকারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। একটি হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি কষ্ট দূর করে দেন, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন। অর্থাৎ মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের চেষ্টা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনেরও মাধ্যম।
অন্যের উপকার করতে সবসময় অর্থের প্রয়োজন হয় না। একজন অসুস্থ মানুষের খোঁজ নেওয়া, বিপদে কাউকে সঠিক পরামর্শ দেওয়া, বৃদ্ধ ব্যক্তিকে রাস্তা পার হতে সাহায্য করা কিংবা ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দেওয়া—এসব ছোট কাজও মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ইসলামের শিক্ষা হলো, সামর্থ্য অনুযায়ী কল্যাণকর কাজে অংশ নেওয়া।
বর্তমান সময়ে মানুষের ব্যস্ততা বাড়লেও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজন কমেনি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নগরজীবনের ব্যস্ততার কারণে অনেক মানুষ নীরবে সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাই পরিবার, প্রতিবেশী ও পরিচিত মানুষের খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে থাকে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণে থাকেন।’ এই শিক্ষা একজন মুসলমানকে আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে বের হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। এতে সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাস, সহমর্মিতা ও মানবিকতা বৃদ্ধি পায়।
ইসলামে দান-সদকার পাশাপাশি সময়, শ্রম, জ্ঞান ও ভালো কথার মাধ্যমেও মানুষের উপকার করার সুযোগ রয়েছে। তাই সামর্থ্য কম হলেও কেউ যেন নিজেকে অসহায় মনে না করেন। একটি ভালো কথা, আন্তরিক পরামর্শ কিংবা প্রয়োজনের মুহূর্তে সামান্য সহযোগিতাও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে।
মানুষের কল্যাণে কাজ করার এই মানসিকতা ব্যক্তিজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। এতে অহংকার কমে, সহমর্মিতা বাড়ে এবং সমাজে সৌহার্দ্য তৈরি হয়। তাই প্রতিদিন অন্তত একজন মানুষের উপকার করার চেষ্টা করা যেতে পারে। ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের জন্য কল্যাণকর হওয়াই একজন মুমিনের সুন্দর চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়।