
প্রকাশ: ৪ জুলাই ২০২৬, ১১:১৫

জীবনের পথে মানুষকে নানা ধরনের পরীক্ষা ও সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। কখনো অর্থনৈতিক কষ্ট, কখনো পারিবারিক সমস্যা, আবার কখনো অসুস্থতা বা মানসিক অস্থিরতা মানুষকে দুর্বল করে তোলে। ইসলাম শিক্ষা দেয়, এসব পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখাই একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।" (সূরা আল-বাকারা: ১৫৩) এই আয়াত একজন মুমিনকে আশ্বস্ত করে যে, ধৈর্য কখনো বৃথা যায় না। কঠিন সময়ে আল্লাহর সাহায্য ধৈর্যশীলদের জন্যই আসে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজ জীবনেও অসংখ্য কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। তায়েফে নির্মম নির্যাতন, মক্কায় দীর্ঘ নির্যাতন কিংবা প্রিয়জনদের মৃত্যু—সব ক্ষেত্রেই তিনি ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা এবং আল্লাহর ওপর ভরসার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর জীবন মুসলমানদের জন্য সর্বকালের শ্রেষ্ঠ আদর্শ।
ইসলামে তাওয়াক্কুল অর্থ হলো নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর ফলাফলের ব্যাপারে আল্লাহর ওপর নির্ভর করা। শুধু বসে থেকে ভাগ্যের অপেক্ষা করা তাওয়াক্কুল নয়। বরং পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য কামনা করাই প্রকৃত ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য।
বর্তমান সময়ে অনেক মানুষ সামান্য বিপদেই হতাশ হয়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সফলতা দেখে নিজের জীবনকে ব্যর্থ মনে করেন। অথচ ইসলাম শেখায়, প্রত্যেক মানুষের পরীক্ষা ভিন্ন। আল্লাহ কারও ওপর তার সামর্থ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।

ধৈর্যের পাশাপাশি নিয়মিত নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও ইস্তিগফার মানুষের অন্তরে প্রশান্তি এনে দেয়। যারা আল্লাহকে বেশি স্মরণ করেন, তাদের হৃদয়ে আল্লাহ বিশেষ প্রশান্তি দান করেন। এই আত্মিক শক্তিই মানুষকে সংকট মোকাবিলায় দৃঢ় রাখে।
ইসলাম আরও শিক্ষা দেয়, বিপদে পড়া মানুষকে সহযোগিতা করা একটি বড় ইবাদত। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক কাজ নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা বৃদ্ধি পেলে অনেক সংকট সহজেই দূর হতে পারে।
মুসলমানের জীবনে ধৈর্য, তাওয়াক্কুল এবং আল্লাহর স্মরণ কখনো বিচ্ছিন্ন নয়। যে ব্যক্তি প্রতিকূল সময়েও আল্লাহর প্রতি আস্থা হারায় না, তার জন্য দুনিয়ায় মানসিক শান্তি এবং আখিরাতে মহাপুরস্কারের সুসংবাদ রয়েছে। তাই জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ, সৎকাজে অবিচল থাকা এবং মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখাই একজন প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।