
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ১৭:৫০

ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ, পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এই দিনটি শুধু ঐতিহাসিক নানা ঘটনার স্মৃতিবাহী নয়, বরং সত্য, ন্যায় ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের এক অনন্য শিক্ষা বহন করে।
জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী এক বক্তব্যে বলেন, আশুরার রোজা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদতের অন্যতম। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে এটি ফরজ ছিল। পরে তা নফল হলেও এর ফজিলত অপরিসীম।
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে ইহুদিদের আশুরার রোজা রাখতে দেখে এর কারণ জানতে চান। পরে তিনি মুসলমানদের ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মহররম মিলিয়ে রোজা রাখার নির্দেশ দেন, যাতে অন্যদের সঙ্গে সাদৃশ্য না থাকে।
আলোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়, ইসলামের ইতিহাসে আশুরার দিনে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। হজরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টি, নুহ (আ.)-এর প্লাবনের সমাপ্তি, ইব্রাহিম (আ.)-এর অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্তি, ইউনুস (আ.)-এর মাছের পেট থেকে উদ্ধার এবং আইয়ুব (আ.)-এর রোগমুক্তিসহ একাধিক ঘটনা এ দিনের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করেছে।

তিনি বলেন, আশুরার অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হলো কারবালার মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি। ৬১ হিজরির ১০ মহররমে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শাহাদতবরণ করেন, যা ইতিহাসে জুলুমের বিরুদ্ধে আত্মত্যাগের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহকে অন্যায়, অবিচার ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার শিক্ষা দেয়। সত্য প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বানও এতে নিহিত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আশুরার প্রকৃত শিক্ষা কেবল শোক পালনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন, বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি, রোজা পালন এবং মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার মধ্যেই এর প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রত্যেক মুসলমানকে এ দিনের শিক্ষা বাস্তব জীবনে ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এছাড়া তিনি সিলেটের বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইমাম, খতিব, প্রধান শিক্ষক ও প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।