পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানদের মধ্যে কুরবানী সম্পর্কিত নানা প্রশ্ন সামনে আসে। ইসলামি শরিয়তে কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পালন করা হয়।
ইসলামি শিক্ষাবিদদের মতে, কুরবানী মূলত সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর ওয়াজিব। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক এমন প্রত্যেক মুসলমান নারী-পুরুষের জন্য কুরবানী আদায় করা আবশ্যক বলে অধিকাংশ ফকিহ মত দিয়েছেন।
হাদিস অনুযায়ী, যিনি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী করেন না, তার প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী না করা উচিত নয়।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, যার কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিয়ে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব হয়। নিসাব নির্ধারণে সাধারণভাবে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার সমমূল্যের সম্পদকে মানদণ্ড ধরা হয়।
কুরবানীর মূল শিক্ষা ত্যাগ ও আত্মসমর্পণ। মহান আল্লাহর নির্দেশে নিজের প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করার যে আদর্শ, তা এসেছে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের ঘটনা থেকে।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, কুরবানী কেবল পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, মানবিকতা এবং দরিদ্র মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির একটি সামাজিক ব্যবস্থা। তাই কুরবানীর মাংস আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও অসহায় মানুষের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।