
প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫১

পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য এক মহিমান্বিত ও বরকতময় সময়। এ মাসের আগমনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আনন্দ প্রকাশ করে থাকেন, যা আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। কোরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন—তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের জন্য যেন মুমিনরা আনন্দিত হয়, কারণ তা পার্থিব সব সম্পদের চেয়েও উত্তম।
রমজান মাসের অন্যতম মর্যাদা হলো—এ মাসে সিয়াম বা রোজা পালন ফরজ করা হয়েছে, যা ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি। রোজা মানুষকে সংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও তাকওয়ার পথে পরিচালিত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, রোজা ফরজ করার উদ্দেশ্য হলো মানুষকে মুত্তাকি বা পরহেজগার বানানো।
এ মাসের আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো কোরআন নাজিলের সূচনা। রমজান মাসেই মানবজাতির জন্য পথনির্দেশনা হিসেবে আল-কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এই মাসে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা সুন্নাহ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিবছর জিবরাইল আলাইহিস সালামের সাথে কোরআন পুনরাবৃত্তি করতেন।
রমজানে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। শয়তানদের আবদ্ধ করা হয়, ফলে মানুষ নেক আমলের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে। এ সময়ে তওবা, ইবাদত ও সৎকর্মের পরিবেশ সহজতর হয়।

রমজান মাসে রয়েছে লাইলাতুল কদর—যে রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে ফেরেশতারা অবতরণ করেন এবং বান্দার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি ও রহমত নাজিল হয়। এই রাত ইবাদতের মাধ্যমে অতুলনীয় সওয়াব অর্জনের সুযোগ এনে দেয়।
এ মাসকে দোয়া কবুলের মাস হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। রোজাদারের দোয়া আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে কবুল করেন। তাই ব্যক্তি ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও ক্ষমার জন্য দোয়া করার এটি সুবর্ণ সুযোগ।

রমজান পাপ মোচন ও ক্ষমা লাভের এক অনন্য সময়। যে ব্যক্তি এই মাস পেয়েও গুনাহ মাফ করাতে ব্যর্থ হয়, তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুর্ভাগা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটি জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত লাভের এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
সবশেষে বলা যায়, রমজান মাস ধৈর্য, সংযম ও আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণের মাস। এই সময়ে প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান বহু গুণে বৃদ্ধি করা হয়। তাই এ মাসকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে ইবাদত, দান-সদকা ও নৈতিক উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করাই মুমিনের প্রধান কর্তব্য।