
প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫২

বর্তমান ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতামূলক জীবনে মানুষ নানা দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। এই বাস্তবতায় ইসলাম মানুষের জন্য শান্তি, শৃঙ্খলা ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থার দিকনির্দেশনা দেয়, যা কেবল ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ইসলাম মানুষকে সৎ পথে চলার আহ্বান জানায় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে শেখায়। পবিত্র কুরআনে বারবার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সত্যের পক্ষে অবিচল থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা একটি সুস্থ সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি।
রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ, ধৈর্য এবং ক্ষমার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে হোক বা সামাজিক পরিসরে, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করলে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও সুন্দর হয়।
ইসলাম মানুষের রিজিক ও উপার্জনের ক্ষেত্রেও সঠিক পথ দেখিয়েছে। হালাল উপার্জন, পরিমিত ভোগ এবং অপচয় পরিহার করার শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

পরিবারকে ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান, সন্তানদের সঠিক শিক্ষা এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার মাধ্যমে একটি নৈতিক ও মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে বলে ইসলাম শিক্ষা দেয়।
সমাজের দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। যাকাত, সদকা ও দান-খয়রাতের মাধ্যমে সম্পদের ভারসাম্য রক্ষা এবং সামাজিক বৈষম্য কমানোর নির্দেশ রয়েছে।
ইসলাম মানুষকে পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতিও দায়িত্বশীল হতে শেখায়। অপচয় রোধ, প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সৃষ্টির প্রতি দয়া প্রদর্শন ইসলামী মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সবশেষে বলা যায়, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা যা মানুষকে দুনিয়াবি শান্তি ও মানসিক প্রশান্তির পথে পরিচালিত করে। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করলে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ই কল্যাণের পথে এগিয়ে যেতে পারে।