
প্রকাশ: ২৭ মে ২০২১, ১৪:৪৭

চাঁদের মালিক আল্লাহ বলেন, "তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। এবং সেখানে চন্দ্রকে রেখেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে।" সূরা নুহ ১৫-১৬।
আল্লাহ আবার সূরা নাহল আয়াত ১২তে বলেন,"তিনিই তোমাদের অধীন করেছেন রাত্রি, দিন, সূর্য এবং চন্দ্রকে। নক্ষত্র রাজিও অধীন হয়েছে তাঁরই বিধানে। নিশ্চয়ই এর মধ্যে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে রয়েছে নিদর্শন।"
"কি সেই নিদর্শন? মেটাফিজিক্সের কসমিক 'ল' বা রহস্যময় সূত্র বোঝা? শুধু এটুকুই? এত সহজ কথা আল্লাহ বলেছেন? মনে হয়না। তাই অনেক চিন্তাশীল মানুষ মনে করেন, ভবিষ্যতে মানবজাতির গ্রহান্তরের যাতায়াত ও বসবাসের কথা আল্লাহ এই আয়াতের মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সূরা আর রহমানের ৩৪ নম্বর আয়াতে এই ইঙ্গিতের পরিষ্কার সমর্থন পাওয়া যায়। আল্লাহ বলেন, "হে জিন ও মানবকূল, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের প্রান্ত অতিক্রম করা যদি তোমাদের সাধ্যে কুলায়, তবে অতিক্রম কর। কিন্তু ছাড়পত্র ব্যতীত তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না।"
আমাদের সাধ্যে এপর্যন্ত যা কুলিয়েছে তাতে সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল ছাড়িয়ে গ্যালাক্সি ও নক্ষত্ররাজী দেখা ও বিশ্লেষণ করতে পেরেছি আমরা। ছাড়পত্রের ব্যাপারে চন্দ্র ও মঙ্গল পর্যন্ত পৌছার ছাড়পত্র আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন। এখন মনে হচ্ছে সত্যিই একদিন মানব জাতি স্টার- ট্র্যাকার হবে, স্পেসশিপ নিয়ে ঘুরে বেড়াবে গ্যালাক্সি থেকে গ্যালাক্সি। এইভাবে কোন একদিন আমাদের সাথে কোন কোন এলিয়েন জাতি বসবাস শুরু করবে বা আমরা করবো তাদের সাথে।
এই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়া আছে সূরা আস- শুরা'র ২৯ নম্বর আয়াতে। আল্লাহ বলেন, "তাঁর এক নিদর্শন নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টি এবং এতদুভয়ের মধ্যে তিনি যেসব জীব-জন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি যখন ইচ্ছা এগুলোকে একত্রিত করতে সক্ষম।"যেসব জীব-জন্তু? মানে কোন সব? আমরা এখনো নিশ্চিত জানিনা, তবে জানবো। কিন্তু তা একদিনে জানবো তাও হবেনা। খুঁজে বের করতে হবে ধীরে ধীরে।

ধীরে ধীরে খোঁজার ইঙ্গিত আল্লাহ দিয়েছেন, সূরা আল ইনসিক্কাক্ক ১৬-১৯ আয়াতে। আল্লাহ বলেন, "আমি শপথ করি সন্ধ্যাকালীন লাল আভার। এবং রাত্রির, এবং তাতে যার সমাবেশ ঘটে। এবং চন্দ্রের, যখন তা পূর্ণরূপ লাভ করে, নিশ্চয় তোমরা এক সিঁড়ি থেকে আরেক সিঁড়িতে আরোহণ করবে।"
এই আয়াতের অর্থ অনেকে জীবনের জন্ম থেকে আখেরাতের স্তর বলেছেন, অনেকে মানব সভ্যতার ইতিহাসের স্তর সমূহ বুঝেছেন। কিন্তু আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলী এই আয়াতটির অনুবাদ করেছেন এইভাবে, "Ye shall surely travel from stage to stage." তিনি 'ট্রাভেল' শব্দ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু এই ট্রাভেল একদিনে হবেনা। ধীরে ধীরে মানুষ গবেষণা করে আল্লাহর সৃষ্টি রহস্য জানতে পারবে। আমরা এখন চাঁদ ছাড়িয়ে মঙ্গলে রোভার আর হেলিকপ্টার উড্ডয়নের স্টেজ বা সিঁড়িতে আছি।
ভবিষ্যতে বিজ্ঞান মানুষকে যে সিঁড়িগুলিতে নিয়ে যাবে সে সবই হবে আল্লাহর সৃষ্ট মহাবিশ্বের বিভিন্ন সিঁড়ি।তবে সব সিঁড়িতেই থেমে থেমে মানবজাতি আল্লাহর বিজ্ঞানময়তা, আল্লাহর সর্বশ্রেষ্টতা দেখে বলে উঠবে, সুবহানআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর।
পবিত্র কোরআনুল করীমে জ্যোতির্বিজ্ঞান, মহাজাগতিক বিষয় ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান নিয়ে ১১৬০টি আয়াত আছে। এখানে মাত্র দশটি আয়াত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গতরাতের সুন্দর রক্তিম চাঁদ দেখে আমরা অনেকে কবিতার ভাবনায় আচ্ছন্ন হয়ে ভেবেছি, "অর্থ নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয়—আরো-এক বিপন্ন বিস্ময় আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে খেলা করে।"
সাথে সাথে আমাদের এই ভাবনাটিও ভাবা উচিত, "অন্ধ পেঁচা অশ্বত্থের ডালে ব’সে এসে চোখ পাল্টায়ে কয়: ’বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনোজলে ভেসে?"
আমাদের জীবনের উদ্যেশ্য যেন সেই বুড়ি চাঁদের মতো বানের জলে ভেসে না যায়; যাতে মৃত্যুর পরে যেখানেই থাকি সেখানে অভিশপ্ত না হই। আমাদের যেন শুধু বলতে না হয়,
চমৎকার!