আলো ও অন্ধকার বিপরীতমুখী দুটো বিষয়। আলোকিত মানুষকে আল্লাহও ভালোবাসেন, মানুষও ভালোবাসে। স্বভাবত মানুষও চায় নিজেকে আলোকিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। কিন্তু আলোকিত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখলেই আলোকিত মানুষ হওয়া সম্ভব হয় না, বরং এর জন্য সৎ, কর্মঠ, পরিশ্রমী, পরোপকারী, জ্ঞানী, সফল, নিষ্ঠাবান, প্রজ্ঞাবান, বিচক্ষণ, নিঃস্বার্থ, পরোপকারী ও সমাজসেবক হওয়ার মতো আদর্শিক বৈশিষ্ট্যাবলি অর্জন করতে হয়। সঙ্গে সঙ্গে কুরআন-হাদিসের নির্দেশিত পথ ও পন্থা অনুযায়ী জীবনযাপন করলেই কেবল প্রকৃত অর্থে আলোকিত মানুষ হওয়া যায়। বক্ষমান নিবন্ধে কুরআন-হাদিসের দৃষ্টিকোণে আলোকিত মানুষের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো।
মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ নিখিল বিশ্বের স্রষ্টা ও প্রতিপালক। তিনি নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, সাগর, মহাসাগর, গাছপালা, তরুলতা, খাল-বিল ও ঝরনাধারাসহ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি একাই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। অতএব, যারা পরাক্রমশালী ও রাজাধিরাজ আল্লাহর একত্ববাদকে স্বীকার করে না তারা নিজেদের প্রকৃত মালিক ও স্রষ্টার ব্যাপারে নিতান্ত অন্ধকারে রয়েছে। এমন লোকদের আলোকিত মানুষ বলা যায় না। মহান আল্লাহ কেবল এমন লোকদেরই আলোর পথ প্রদর্শন করেন যারা তার প্রতি ঈমান আনয়ন করে। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে। আর যারা কুফরি করে তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই হলো দোজখের অধিবাসী, চিরকাল তারা সেখানেই থাকবে।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৫৭)
অন্যায়, অবিচার, পাপাচার, ব্যভিচার, খুন, ধর্ষণ, লুটতরাজ, ছিনতাই, রাহাজানি, মাদক, চোরাচালান, জুলুম-নির্যাতন, উৎপীড়ন ও নিপীড়নসহ যত অপরাধ রয়েছে সব নিকষ কালো অন্ধকারে আচ্ছন্ন। এ কথা সত্য যে, প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনো পাপকর্মে জড়িত। তবে যেসব লোক তওবা করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হতে ফিরে আসে তারা আলোকিত মানুষ। পরকালে তওবাকারী লোকদের ডানে, বামে, সামনে ও পেছনে আলো ছোটাছুটি করতে থাকবে। এ জন্য কৃত অপরাধ হতে তওবা করে ফিরে এসে আলোকিত মানুষ হওয়া বাঞ্ছনীয়। পবিত্র কুরআনে এসেছে, ‘মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তরবা করো-আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মগুলো মোচন করে দেবেন। তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। সেদিন আল্লাহ নবী (সা.) এবং তাঁর বিশ্বাসী সহচরদেরকে অপদস্ত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও ডানদিকে ছোটাছুটি করবে। তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের আলোকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি সবকিছুর ওপর সর্ব শক্তিমান।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ০৪)