প্রকাশ: ৬ মার্চ ২০২০, ১৫:৩০
শামীমা নূর পাপিয়ার অপকর্ম আঘাত হানছে যুব মহিলা লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে। পাপিয়াকে নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রদান এবং তার কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ের দায়ে নেতৃত্ব হারাতে পারেন যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, ‘দুই মাসের মধ্যে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হবে।’ আগামী ১১ মার্চ শেষ হতে যাচ্ছে যুব মহিলা লীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ। গ্রেফতার হওয়ার পর পাপিয়াকে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। গত বছর ক্যাসিনোকাণ্ডে নাম আসে যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন নেতার। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুবলীগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ওমর ফারুক চৌধুরীকে। এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ ছাড়তে হয় রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে। একই অভিযোগে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাউসার ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথও পদ হারান। যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে অংশগ্রহণেরও সুযোগ পাননি পদ হারানো ঐ নেতারা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা জানান, ক্যাসিনোকাণ্ডে ছাত্রলীগ-যুবলীগকে শুদ্ধি অভিযানের আওতায় আনার পর এবার যুব মহিলা লীগেও একই সূত্র প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শামীমা নূর পাপিয়ার অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর অবাক আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুব মহিলা লীগে শুদ্ধি অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘অনেকের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছি। কারা কী করছেন সবার আমলনামা আমার কাছে রয়েছে। এ ব্যাপারে অনেক প্রতিবেদন আসছে। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতাকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ সম্প্রতি অনানুষ্ঠানিক একটি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন বলে দলীয় একটি সূত্র একটি জাতীয় দৈনিককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, পাপিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর যুব মহিলা লীগের শীর্ষ দুই নেতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে যান। ঐ সময় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত যুব মহিলা লীগের নেতাদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো তালিকা করতে পারেননি যুব মহিলা লীগের বর্তমান নেতৃত্ব। তবে সরষের মধ্যে ভূত থাকলেও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এখনই বাদ যাচ্ছেন না সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা। আগামী মাসে সম্মেলন হতে যাচ্ছে যুব মহিলা লীগের। আর এ সম্মেলনে বিতর্কিত অনেকে বাদ পড়বেন। আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জানান, খুব শিগিগরই যুব মহিলা লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে যুব মহিলা লীগের শীর্ষ দুই নেতার আলোচনা হয়েছে। এরই মধ্যে সংগঠনটির কয়েকজন নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সামনে আসায় সংগঠনটিকে ঢেলে সাজাতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সূত্র: ইত্তেফাক