প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৩৫

বিএনপির সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, বিরোধী দল হিসেবে কী কর্মসূচি পালন করতে হবে, সে বিষয়ে বিএনপির কাছ থেকে নসিহত নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি দাবি করেন, অতীতে বিএনপি বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পিরোজপুরে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, বিএনপি যখন ‘মার্চ টু ডেমোক্রেসি’র ঘোষণা দিয়েছিল, তখন একটি বালুর ট্রাক দিয়েই তাদের লংমার্চ আটকে দেওয়া হয়েছিল। সেই ট্রাক সরাতেও তারা সক্ষম হয়নি। তাই ওই ব্যর্থতার পর এখন তাদের কাছ থেকে বিরোধী দলের কর্মসূচি সম্পর্কে পরামর্শ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, এনসিপি জাতীয় পার্টির মতো কোনো ‘পোষা বিরোধী দল’ হবে না। বিএনপি যেন এমন কোনো প্রত্যাশা না করে। দলের কর্মসূচি কী হবে, তা এনসিপি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করবে।
বিএনপি যদি এনসিপির কর্মসূচি প্রতিহত করার চেষ্টা করে, তাহলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলেও সতর্ক করেন সারজিস। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কর্মসূচি নিয়ে বাধা সৃষ্টি বা প্রতিরোধের রাজনীতি কোনোভাবেই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না।

বাকস্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির এই নেতা বিএনপির নেতৃত্বেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এনসিপির একজন সদস্য প্রধানমন্ত্রীকে সমালোচনা করায় দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় কমিটির ওই সদস্যের ভাষা ও বক্তব্যকে অনুপযুক্ত মনে করেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সারজিসের অভিযোগ, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিএনপি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং এখনো জামিন দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য, একদিকে বাকস্বাধীনতার কথা বলা এবং অন্যদিকে সমালোচনার কারণে গ্রেপ্তার ও মামলা দেওয়া পরস্পরবিরোধী।
সিফাত নামের ওই ব্যক্তির বক্তব্যের ভাষা এনসিপি সমর্থন করে না উল্লেখ করে সারজিস বলেন, গালাগালিকে সমর্থন করার প্রশ্নই আসে না। তবে তার বিরুদ্ধে করা মামলাটি নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা পুরোনো মামলা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির পিরোজপুর জেলা আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির। সদস্য সচিব মাইনুল আহসান মুন্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।