
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৩৬

ক্ষমতা হারানোর পর কঠিন সংকটে পড়েছে আওয়ামী লীগ, আর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ওপর। মাঠপর্যায়ে এখন হতাশা, অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দলটির অনেক তৃণমূল নেতা মনে করছেন, বিদেশে অবস্থান করে দল পরিচালনা করা আর সম্ভব নয়। তাদের মতে, সংগঠনকে টিকিয়ে রাখতে হলে শীর্ষ নেতাদের ঝুঁকি নিয়েই দেশে ফিরে আসা প্রয়োজন।
ঢাকার বাইরে এক উপজেলার একজন স্থানীয় নেতা জানান, নির্বাচনের আগে তারা ভেবেছিলেন সরকার পরিবর্তনের পর হয়তো রাজনৈতিক পরিবেশ কিছুটা সহনীয় হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
তৃণমূলের এই আশার পেছনে ছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলের কিছু বক্তব্য। বিশেষ করে কোনো দল নিষিদ্ধ না করার প্রতিশ্রুতি এবং ভোটের আগে নমনীয় আচরণ তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছিল।
তবে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ তাদের। স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করলে নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানান একাধিক নেতা।

কিছু জায়গায় দলীয় কার্যালয় খোলার চেষ্টা হলেও তা স্থায়ী হয়নি। কোথাও কোথাও হামলার শিকার হয়ে কার্যালয় আবার বন্ধ হয়ে যায়, ফলে অনেক স্থানে সংগঠন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
তৃণমূল নেতাদের দাবি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দৃশ্যমান না থাকলে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের মতে, ঢাকাকেন্দ্রিক নেতৃত্ব ছাড়া সংগঠনের পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয়।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়ায় তারা সময়ের অপেক্ষায় আছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি বাস্তবতায় দলটির পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে।