
প্রকাশ: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:১০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের সম্পৃক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। দলটির মতে, সংসদ নির্বাচনের মতো একটি জটিল ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের যুক্ত করা হলে তা তাদের জন্য যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তেমনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বিতর্কের মুখে পড়তে পারে।
রোববার দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, অল্প বয়সী শিক্ষার্থীদের নির্বাচন কার্যক্রমে যুক্ত করা কোনোভাবেই সমীচীন নয় এবং এ বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্টভাবে তাদের অবস্থান জানানো হয়েছে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংক্রান্ত আইনে যাদের দায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে, শুধুমাত্র তাদেরকেই নির্বাচনি কাজে রাখা উচিত। তিনি জানান, ছাত্রদের পাশাপাশি স্কাউটদের যুক্ত করার কথাও শোনা যাচ্ছে, যা নিয়ে বিএনপি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কমিশন তাদের বক্তব্যের যৌক্তিকতা স্বীকার করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
বৈঠকে নির্বাচনি এলাকায় তথাকথিত শান্তি কমিটি গঠনের গুঞ্জন নিয়েও কথা হয় বলে জানান তিনি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, শান্তি কমিটি শব্দটি বিএনপির কাছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের এলাকা ছেড়ে অন্য নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে কাজ করছেন, যা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি বলেন, আইনে বাধা না থাকলেও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ভোটের অন্তত দুই দিন আগে বহিরাগতদের সংশ্লিষ্ট এলাকা ত্যাগ করা উচিত। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রায় ৫৫ হাজারের বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেক অপরিচিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিএনপির মতে, সক্ষম ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানকেই পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া উচিত এবং অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক যেন ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার কারণ না হয়, সে বিষয়েও নজর রাখা দরকার।
ভোটার তালিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে ঢাকা মহানগরীসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক ভোটার স্থানান্তরের তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। কমিশনের দেওয়া সংখ্যার সঙ্গে বিএনপির প্রাপ্ত তথ্যের মিল নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি। কিছু হোল্ডিংয়ে অস্বাভাবিক সংখ্যক ভোটার থাকার বিষয়টি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
বৈঠকে আরও বলা হয়, নির্বাচনি এলাকায় ইলেক্টোরাল ইনকয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটি থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে এর কার্যক্রম স্পষ্ট নয়। বিএনপি চায় এই কমিটির ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হোক। বৈঠকে নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিএনপি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।