
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর পুনর্গঠন এবং নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ছাড়া নির্বাচনী কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এ কারণে জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রমও পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।
সম্প্রতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিভিন্ন জেলার নেতাদের ধারাবাহিক বৈঠকে সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এসব বৈঠকে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি, সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলার নেতাদের সঙ্গেও একই ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব দলীয় নেতাদের প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীর কারণে যাতে বিভক্তি বা অভ্যন্তরীণ বিরোধ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে সমর্থনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দলীয় সূত্র বলছে, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ত্যাগী, সক্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিতর্কিত ব্যক্তি বা অন্য দল থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ না দিতে যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করা হবে।

নেতারা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানো এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মাঠপর্যায়ের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নীতিতে এগোচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির এই সাংগঠনিক পুনর্গঠন ভবিষ্যতের বৃহত্তর রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জাতীয় পর্যায়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তৃণমূলে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করা গেলে দল আগামী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আরও সুসংগঠিতভাবে অংশ নিতে সক্ষম হবে বলে তারা মনে করছেন।
দলের নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও তৃণমূলের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিএনপি আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক কার্যক্রমে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।