প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২০

নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে এক আলোচনাসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেকে ‘স্যার’ নয়, ‘ভাইয়া’ বলে সম্বোধনের অনুরোধ জানিয়ে ভিন্নধর্মী বার্তা দিয়েছেন। তরুণদের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব কমাতে এবং সহজ ভাষায় সংযোগ গড়ে তুলতেই এমন আহ্বান বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রোববার সকালে চট্টগ্রামের একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ইয়ুথ পলিসি টক’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এখন তরুণ প্রজন্ম। আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর এই তরুণ জনগোষ্ঠীই দেশের মূল কর্মশক্তি হিসেবে কাজ করবে। তাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে, সে রূপরেখা তৈরিতে তরুণদের ভাবনা ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক শিক্ষার্থী তাকে ‘স্যার’ সম্বোধন করলে তারেক রহমান হাসিমুখে বলেন, আনুষ্ঠানিক সম্বোধনের চেয়ে ‘ভাইয়া’ ডাকটাই তার কাছে বেশি আপন। এমন মন্তব্যে পুরো মিলনায়তনে প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হয় এবং তরুণদের মধ্যেও স্বাচ্ছন্দ্য দেখা যায়।
আলোচনায় তরুণ উদ্যোক্তাদের সমস্যার কথাও উঠে আসে। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণে জামানত জটিলতা, পুঁজির সংকট এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক কাঠামোর অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিক্ষার্থীরা। জবাবে তারেক রহমান বলেন, সরকারে এলে আইন সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি বিদেশে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্টুডেন্ট লোন’ চালুর চিন্তাভাবনার কথাও জানান তিনি।

পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গেও তরুণদের প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু বড় শহর নয়, সারা দেশেই পরিকল্পিত খাল খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
এই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ও আশপাশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শত শত শিক্ষার্থী অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রামে তারেক রহমানের উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। একই দিনে নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে বড় সমাবেশসহ চট্টগ্রাম ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় একাধিক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে তার।
তরুণদের সঙ্গে এই খোলামেলা সংলাপকে বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতির কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকেই। আনুষ্ঠানিকতা ভেঙে ‘ভাইয়া’ সম্বোধনের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে নিজেকে কাছের মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করাই যেন তারেক রহমানের এই রাজনৈতিক বার্তা।