
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:১৪

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সিল দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব এখন জনগণের হাতে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের দরজা খুলবে। তিনি নিজে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং বলেন, সম্মিলিত অংশগ্রহণেই দেশ বদলানো সম্ভব।
প্রফেসর ইউনূস জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে জাতির ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, এই আন্দোলন অপ্রত্যাশিতভাবে দেশের জন্য গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এর ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে কিছু কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের লক্ষ্যে দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্যই জনগণের সম্মতি নেওয়া হচ্ছে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত জানাতে পারবেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের অর্থ হলো বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়নমুক্ত বাংলাদেশের পথে অগ্রসর হওয়া। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে এবং সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের সম্মতি বাধ্যতামূলক হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিধান, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, সংসদে বিরোধী দলের শক্তিশালী ভূমিকা এবং নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি। পাশাপাশি ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।
জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতা সীমিত করা, সব ক্ষমতা একজন প্রধানমন্ত্রীর হাতে কেন্দ্রীভূত না রাখা এবং মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির কথাও তুলে ধরেন।
শেষে প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনের দিন গণভোটে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রকে নিজেদের প্রত্যাশা অনুযায়ী গড়ে তুলতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। তাঁর আশা, জনগণের সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন বাংলাদেশের সূচনা হবে।