প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:২

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর সময় ঘনিয়ে আসছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্দা উঠবে এবারের আসরের। টুর্নামেন্টটির আয়োজক দেশ ভারত হলেও অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দলের অবস্থানের কারণে বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনার কারণে পাকিস্তান দল ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর ফলে আইসিসি আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই ভেন্যু জটিলতার সূত্রপাত।
সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতে হওয়ার কথা ছিল। তবে সম্প্রতি একটি ঘটনার পর বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে। আইপিএলে সর্বোচ্চ ৯ কোটি ২০ লাখ টাকায় দল পাওয়া বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা বলে আসর থেকে বাদ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
এই সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানায়, যদি একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে পুরো দল, টিম ম্যানেজমেন্ট, সাংবাদিক ও সমর্থকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—তা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে।
এই অবস্থায় বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে আইসিসিকে জানিয়ে দেয়, নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা দূর না হলে তারা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি নয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইসিসির প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও বাংলাদেশের অবস্থানে তেমন পরিবর্তন আসেনি।

এরই মধ্যে সংকট আরও গভীর হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থানে। পাকিস্তানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে যৌক্তিক মনে করছে ইসলামাবাদ। সমস্যা সমাধান না হলে বিশ্বকাপে নিজেদের অংশগ্রহণ নিয়েও তারা নতুন করে ভাবতে পারে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
পাকিস্তানি সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের পাশে থাকার বিষয়টি সরকারিভাবেও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো দলকে জোর করে খেলতে বাধ্য করা যায় না এবং বাংলাদেশকে এ বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে একের পর এক এমন অবস্থান আইসিসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ভেন্যু ও নিরাপত্তা সংকটের সমাধানে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা কী সিদ্ধান্ত নেয়।