
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র নিরাপত্তার নিরিখে ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে ৮ হাজার ৭৮০টি ভোটকেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৬ হাজার ৫৪৮টি এবং সাধারণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৭ হাজার ৪৩৩টি। এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। একই সঙ্গে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে, যাতে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরাপদ থাকে।
নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ লাখ, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন সদস্য মাঠে থাকবেন।

এছাড়া পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন এবং কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। র্যাবের ৭ হাজার ৭০০ জন এবং ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে নিয়োজিত থাকবেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট সাত দিন ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করবেন।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, নির্বাচনকালীন সময়ে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। এই সেলে প্রতিটি বাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন, যারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।