প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৫৬

ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে এবং খুব শিগগিরই এর বাস্তব রূপ দেখা যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ তিস্তা পাড়ের মানুষের জন্য এই মন্তব্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার দুপুরে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে রংপুরের কাউনিয়া ব্রিজ সংলগ্ন তিস্তা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন চীনা রাষ্ট্রদূত। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে পরিবেশ উপদেষ্টা ও চীনা রাষ্ট্রদূত একটি নৌকায় করে তিস্তার উভয় তীর ঘুরে দেখেন। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি তারা নদী ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
তিস্তা পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তারা। ভাঙনের কারণে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ, জীবিকার সংকট এবং দীর্ঘদিনের দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রদূত। এ সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়।
কাউনিয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা ত্রাণনির্ভর সমাধান চান না; বরং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপই তাদের মূল দাবি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

পরিদর্শন শেষে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পে চীন কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিতে আগ্রহী। বর্তমানে প্রকল্পের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে, যাতে এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয়।
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশে উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় চীন সবসময় সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করছে। তিস্তা অঞ্চলের মানুষের সমস্যাকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং চলমান কারিগরি মূল্যায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রংপুরে পৌঁছে চীনা রাষ্ট্রদূত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যা এই সফরকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।