
প্রকাশ: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৬

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ভারতবিরোধী মনোভাব এবং ভূ-রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেও নয়াদিল্লি বাংলাদেশের জন্য অর্থ সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরের ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেট অনুযায়ী বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬০ কোটি রুপি। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ ছিল ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ রুপি। অর্থাৎ নতুন বরাদ্দ প্রায় ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ভারতের এই উদ্যোগে ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির প্রতিফলন দেখা যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কিছু জনমতে ভারত-বিরোধী ধারা থাকলেও নয়াদিল্লি তা বিবেচনা না করে উন্নয়ন অংশীদারিত্ব বজায় রাখার জন্য বরাদ্দ বাড়িয়েছে। বাজেট প্রস্তাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে ১২০ কোটি রুপি প্রস্তাব করেছিল, যা শেষমেষ ৬০ কোটি রুপিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে। বরাদ্দের অর্থ মূলত বাংলাদেশে ভারতের অর্থায়নে পরিচালিত কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হবে।
বাজেটের এই বিশেষ বরাদ্দ বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হলেও ভারতের অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল দেখা গেছে। সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে ভুটান, যেখানে ২ হাজার ২৮৮ কোটি রুপি রাখা হয়েছে। আফগানিস্তানের বরাদ্দ বাড়িয়ে ১৫০ কোটি রুপি করা হয়েছে, যা পূর্বের ১০০ কোটি থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। নেপাল, মালদ্বীপ ও মরিশাসের জন্য বরাদ্দ কিছুটা কমানো হয়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক চাপের কারণে ইরানের চাবাহার বন্দরের জন্য বরাদ্দ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতেই নয়াদিল্লি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের এই কৌশল নির্দেশ করছে যে, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে চাইছে, তবে আন্তর্জাতিক চাপ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেছে।
বাজেটের এই বরাদ্দ বাংলাদেশে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি এটি দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
সর্বমোট, নতুন অর্থবছরে ভারত বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে মোট ৮ হাজার ৭৯২ কোটি রুপি ঋণ ও অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বাংলাদেশকে এই বিশেষ বরাদ্দ প্রদানের মাধ্যমে নয়াদিল্লি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার নীতি মেনে চলার ইঙ্গিত দিয়েছে।