
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১:২৭

নেছারাবাদ-কৌরিখাড়া খেয়াঘাটের দুইপাড়ে দুইটি ঘাটলা ও একটি যাত্রী ছাউনির নির্মান কাজে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের কাজ সমাপ্ত করার শেষ পর্যায়ে কৌরিখাড়া ঘাটের যাত্রী ছাউনির ছাদের মধ্যভাগ ভেঙ্গে দেবে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঠিকাদার একটি লোহার পাইপ বসিয়ে ভাঙ্গন ঠেকিয়ে তার দায় সেরেছেন। তবে যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রানহানীর আশংকা রয়েই গেছে। প্রয়োজনীয় রড,সিমেন্ট না দিয়ে মাত্র দুই ইঞ্চি পুরু একটি দুর্বল ছাদ নির্মান করায় এ অবস্থার সৃস্টি হয়েছে।
এছাড়াও নিম্নমানের মালামাল দিয়ে দুইটি ঘাটলা নির্মান করায় বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং সিড়ির ধাপ ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে। পিরোজপুর জেলা পরিষদের অর্থায়নে দশ লাখ টাকা ব্যায়ে সন্ধ্যা নদীর দুইপাড়ে দুইটি ঘাটলা ও একটি যাত্রী ছাউনি নির্মান করা হচ্ছে। যে কাজ বাস্তবায়ন করছে মেসার্স শেখ ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে ওই কাজ হস্তান্তরের অংশ হিসেবে নাম ফলক স্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা সালাম রেজা জানান চিকন রড ও নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে ৪টি কলম (খুটি) নির্মান করা হয়েছে। টাই ভিম না দিয়ে সেই দুর্বল খুটির উপর মাত্র দুই ইঞ্চি পুরু ছাদ নির্মান করা হয়। ছাদের সেন্টারিং খোলার সাথে সাথে মধ্য বরাবর ভেঙ্গে দেবে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঠিকাদার একটি লোহার পাইপ বসিয়ে ঠেক দিয়ে কাজ সমাপ্ত করেন। এছাড়াও প্রয়োজনীয় রড না দিয়ে ছাদ নির্মান করায় যে কোনো সময় তা ভেঙ্গে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন মাসাধিকাল ধরে এ নির্মান কাজ চললেও একদিনের জন্য কোনো প্রকৌশলী কাজ তদারকি করতে আসেননি।

এদিকে খেয়াঘাটের টোল আদায়কারী আঃ হাকিম অভিযোগ করেন ঘাটলার সিড়ি নির্মানেও প্রয়োজনীয় রড,সিমেন্ট দেয়া হয়নি। সে কারনে ঘাটলার বিভিন্নস্থানে ভাঙ্গনের সৃস্টি হয়েছে। আদায়কারী হাকিম বলেন নদীর পূর্বপাড়ে স্বরূপকাঠি ঘাটের পুরোনো ঘাটলার সাথে মিলিয়ে নতুন ঘাটলা বানানো হয়েছে। পরে প্লাস্টার করে নতুন ঘাটলা হিসেবে দেখানো হয়।

এ ঘাটলারও বিভিন্ন জায়গায় ভাঙ্গনের সৃস্টি হয়ে সিড়ির ধাপ গুলো ভেঙ্গে উঠে যাচ্ছে। এ বিষয় কাজ তদারতির দায়িত্বে থাকা জেলা পরিষদের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো.মনিরুজ্জামান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন কাজের মান ঠিক হয়নি এবং ছাদের পুরুত্ব করতে হবে ৫ ইঞ্চি। প্রকৌশলী বলেন ওই কাজগুলো ভেঙ্গে নতুন করে আবার কাজ করানো হবে।
জেলা পরিষদের সদস্য (স্বরূপকাঠি থেকে নির্বাচিত) মো. সেলিম মিয়া বলেন কাজের মান খুবই খারাপ হয়েছে। জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি দেশে ফেরার পর তাকে জানানো হবে এবং তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব